কৌশল বদলে ফের ক্যাসিনো

নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় ক্যাসিনোসহ জুয়ার কারবার আবার শুরু হয়েছে। কৌশল পরিবর্তন করে, ছোট পরিসরে বাসা-বাড়িতে চলছে এসব জুয়ার আসর। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন তথ্য পেয়ে কারবারিদের ধরার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

অবৈধ জুয়ার কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, করোনাকালেও অত্যন্ত গোপনে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে ক্যাসিনো ও জুয়ার কারবার। অনলাইন জুয়াও চলছে।

গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয় ঢাকাসহ দেশব্যাপী। প্রথম দিনই রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওই দিন ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গুলশানের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে যুবলীগের একই শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই দুজনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঢাকায় ক্লাবকেন্দ্রিক ক্যাসিনোকাণ্ডের ব্যাপক কারবার ফাঁস হতে শুরু করে। সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য বেরিয়ে আসার পাশাপাশি ক্যাসিনোকাণ্ডের আরো হোতার নাম আসতে থাকে। গণপূর্তের ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের টেন্ডারবাণিজ্য, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিফুল আলম ফিরোজ, অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান সমন্বয়কারী সেলিম প্রধান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান, মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হক ওরফে মনজুর নাম আসে। এরপর অভিযানে একে একে তাঁরা ধরা পড়েন। অনেকেই গাঢাকা দেন। কেউ কেউ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে আত্মগোপন করেন। এভাবে প্রায় তিন মাস ক্যাসিনোবিরোধী মোট ৪৯টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৩২টি র্যাব এবং ১৭টি অভিযান পুলিশ পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ২২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫৩ জন।

এই সময়ের মধ্যে ১১টি ক্যাসিনো ও ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ক্লাবগুলো হলো—রাজধানীর মতিঝিলে মোহামেডান ক্লাব, ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, ধানমণ্ডি ক্লাব, ফু-ওয়াং ক্লাব, বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ, চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ও আবহানী ক্লাব। এরপর আরো বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ  বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান শেষে যারা দেশে ফেরেন : খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের জুয়ার আসরের ইজারাদার আলী আহমেদ ও গুলিস্তান এলাকার দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ অন্তত ৪০ জন এখন দেশে, যাঁরা ওই সময় অভিযানের ভয়ে বিদেশে পালিয়েছিলেন।

জামিনে যাঁরা : অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ ও মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা : ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিন সংসদ সদস্যসহ ২৩ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমানের ব্যাংক হিসাব তলব করে।

যা যা জব্দ : ওই অভিযানে আট কোটি ৪৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। ১৬৬ কোটি টাকার এফডিআর, ১৩২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই এবং ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেকও জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ২২টি অবৈধ আগ্নেয়ান্ত্র, আট কেজি স্বর্ণ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

মামলা : এসব ঘটনায় দায়ের করা হয় ৩২টি মামলা। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি মামলার তদন্ত করে র‍্যাব। এরই মধ্যে র্যাব ১৩টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে। এ ছাড়া এখনো একটি মামলা তদন্ত করছে র্যাব। বাকি ১৮টি মামলা তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশের তদন্ত করা মামলাগুলোর মধ্যে সাতটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটির চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

র‍্যাব সূত্র জানায়, যে মামলাটির এখনো তদন্ত চলছে শিগগিরই তার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ  বলেন, এনু-রুপনের কাছ থেকে জমিসহ ২০টি বাড়ি, ১২০টি ফ্ল্যাট, ২৫ কাঠা জমি ছাড়াও ৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৯ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।