মঙ্গলবার , ২ জুলাই ২০২৪ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃষি প্রণোদনা পেয়ে উৎপাদন বেড়েছে, লাভবান গোমস্তাপুরের কৃষকেরা 

Paris
জুলাই ২, ২০২৪ ৪:৫১ অপরাহ্ণ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩১ হাজার ৮৬০ জন কৃষক কৃষিতে প্রণোদনা পেয়েছেন। এতে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের বীজ ও সার পেয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। কৃষি বিভাগের বিতরণ কেন্দ্র থেকে  নিজ দায়িত্বে প্রণোদনার বীজ ও সার সংগ্রহ করেছেন তারা। তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কেউ এসে এই প্রণোদনা নিতে পারেনি। নারী কৃষকদেরও তালিকা অনুযায়ী প্রণোদনার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। এদিকে প্রণোদনার বীজ ও সার নিয়ে ফসল উৎপাদন করে অনেক কৃষক লাভবান হয়েছেন। সরকারি এই প্রণোদনা পেয়ে তারা চাষাবাদে উৎসাহিত হয়েছেন। এক ইঞ্চিও আবাদি জমি ফাঁকা না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে তালিকাভূক্ত কৃষকদের মধ্যে আউস ধানের প্রণোদনা পেয়েছেন ৬ হাজার ৫০০ জন, আমন ধানের ১৬০০ জন। প্রণোদনা হিসেবে তাদেরকে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়। বোরো মৌসুমে ৫ হাজার জনকে হাইব্রিড ধানের বীজ ২ কেজি করে ও উফসী জাতের ৬ হাজার ১০০ জনকে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার পেয়েছেন। সরিষা প্রণোদনা পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৫০ জন, গম ৩ হাজার জন, ভুট্টা ৯০০ জন, মাসকালাই ১ হাজার ২০০ জন, খেসারী ২০০ জন, মসুর ১৫০ জন, মুগ ১১০ জন ও শীতকালীন পেঁয়াজ ১৫০ জনকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

দোষীমনি কাঁঠাল গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, লিজসহ ৪ বিঘা জমিতে আউস ধান চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে তিনি ১ বিঘার জন্য প্রণোদনা হিসেবে ৫ কেজি ধানের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার পেয়েছেন। ওই বীজ বপন করে ভালো চারা তৈরি হয়েছে। রোপণকৃত চারা জমিকে ভা হয়েছে৷ ফসল উৎপাদন ভালো হবে বলে তিনি মনে করছেন।

বাইরুল,সালাম,এমদাদুল, রবিউল ইসলামসহ অনেক কৃষক জানান, তারাও বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার পেয়েছেন। বীজগুলো মান ভালো। বাইরের বীজ কিনলে অনেকসময় ভালো হয় না। আমরা নিজ খরচে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এই প্রণোদনা নিয়ে এসেছি। ৫ জনের গ্রুপ করে আমাদের বীজ ও দুই রকমের সার দিয়েছে।

তাজকেরা নামে এক নারী কৃষক জানান, আমি মেয়ে হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে খুশি। কখন ভাবিনি এগুলো পাব। আমার বিলে ও বরিন্দে জমি রয়েছে। যার জমি রয়েছে তারা সবাই পাবে এটা তার প্রত্যাশা।

ফখরুদ্দিন নামে এক কৃষক বলেন, কৃষি অফিস থেকে এক বিঘা জমির জন্য সরিষার বীজ ও সার পেয়েছি। সার কিনতে হয়নি। ভালো উৎপাদন হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে কখন কি করতে হবে সেটার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আমন প্রণোদনা নিতে আসা বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে আনন্দ হয়েছে। কিন্তু এই বয়সে কৃষি অফিসে এসে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তবে কষ্ট হলেও প্রকৃত কৃষকরাই পাচ্ছেন। যে কেউ নিতে পারছেন না। সরকার আমাদের মত কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতা করছেন।

গোমস্তাপুর ইউনিয়নের জাহিদনগর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ আল ফুয়াদ জানান, কৃষি প্রণোদনা পেয়ে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এসব বীজ পেয়ে কৃষকরা মাঠে চাষাবাদ করছেন। ভালো ফলনে তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করে প্রণোদনার বীজ ও সার দেয়া হয়ে থাকে।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, উপজেলার ৩১ হাজার ৮৬০ জনকে চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের বীজ ও সার পেয়েছেন। বিনামূল্যে এসব পাওয়ার কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন। উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এতে করে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সঠিক সময়ে সঠিক কৃষককে কৃষিবান্ধব সরকারের প্রণোদনা তুলে দিতে বদ্ধপরিকর  উপজেলা প্রশাসন  ও কৃষি বিভাগ।

এ বিষয়ে প্রণোদনা কমিটির সভাপতি  ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত আনজুম অনন্যা বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ যাচাই বাছাইপূর্বক প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে এবং কমিটির সর্বসম্মতিতে অনুমোদনপূর্বক প্রকৃত কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা  বিতরণ করা হয় । এক্ষেত্রে, সরকারের কৃষি বিভাগের বরাদ্দসমূহ নীতিমালার আলোকে সুষ্ঠুভাবে কৃষকদের মাঝে বণ্টন করা হয়ে থাকে।

সর্বশেষ - কৃষি

...