কলাগাছের সুতায় তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্কঃ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ফেলে দেওয়া কলাগাছের ডোঙা ও ডাঁটা থেকে উৎপাদিত আঁশের সুতা দিয়ে তৈরি হস্তশিল্প এখন রপ্তানি করা হচ্ছে দেশের বাইরে। ইতোমধ্যে বেশকিছু পণ্য ফ্রান্সে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন ধরনের পাপস, ঝুরি ও ব্যাগ। চট্টগ্রামের এক রপ্তানিকারকের মাধ্যমে এই পণ্য পাঠানো হবে।

নতুন উদ্যোক্তা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের সারজেল মল্লিকের ছেলে শাহিন উদ্দীন জানান, ২০১৯ নিজ হাতে যন্ত্র বানিয়ে বাড়িতে বসান তিনি। পরে সে গ্রামের মাঠের পরিত্যক্ত কলাগাছ সংগ্রহ করে সুতা উৎপাদন শুরু করেন। তার সুতা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হতে থাকে। একপর্যায়ে তার ওই ব্যবসায় ভাটা পড়লে তিনি উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমন সময় দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান তার পাশে দাঁড়ান। তার সহায়তায় গ্রামের নারীদের নিয়ে সমিতি গঠন করেন। যুব উন্নয়ন ও আইপিএম স্কুলের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদিত সুতা দিয়ে নানা শিল্পপণ্য যেমন দোলনা, দড়ি,পাপোস, সিকা, স্কুল ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করতে থাকেন। একই সাথে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির শেড গড়ে তুলে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে বাজারজাত করে বিক্রি শুরু হয়েছে। এছাড়াও দুটি সমিতির নারীদের নিয়ে উৎপাদিত সুতায় তৈরি প্রায় হাজার খানেক বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়।

শাহিন আরো জানান, কৃষি কর্মকর্তা পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এরই মাঝে তার কিছু পণ্য চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর  মাধ্যমে ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে নমুনা হিসেবে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তিতে পাপস, টেবিলম্যাট, ওয়ালম্যাট, ব্যাগ ও ঝুরির অর্ডার মেলে। এগুলো পাঠানো হবে ফ্রান্সে। ইতোমধ্যে এসকল পণ্য উৎপাদন শুরু করা হয়েছে যা চলতি মাসের শেষের দিকে পাঠানো হবে। এছাড়াও যশোরের একজন প্রবাসীর মাধ্যমে কিছু পণ্যের নমুনা আমেরিকায় পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, কলাগাছের বর্জ্য দিয়ে জৈবসার, পোলট্রি ফিড, মাছের খাবার, কীটনাশক, সাবান-সোডা ইত্যাদি তৈরির কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি আরো জানান, শাহিনের এই সুতা তৈরির কারখানা, কেঁচো কম্পোস্ট সার শেড ও শিল্পপণ্য তৈরির কাজে প্রায় শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ক্রমেই এর সম্প্রসারণের চিন্তা-ভাবনা চলছে। সফল হলে এলাকার আরো মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

 

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ