করোনা ভাইরাস: ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নির্দেশনা বাস্তবায়ন কতোটা সম্ভব

করোনাভাইরাসের বিস্তার কমাতে বাংলাদেশ সরকার এবার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’, অর্থাৎ মাস্ক পরিধান ছাড়া কাউকে কোন সেবা দেয়া হবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে। শুধু নির্দেশনা জারি করে কোন পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি ওই নির্দেশনার আওতায়, এখন থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোয় কেউ মাস্ক ছাড়া গেলে তাদের বের করে দেয়া হবে বলে রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ঘরের বাইরে মাস্ক পরার বিষয়টি সরকারি নির্দেশনায় আগে থেকে থাকলেও সম্প্রতি মানুষের মধ্যে এই নিয়ম মানার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা যায়।

গত কয়েক সপ্তাহ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক কমে এলেও আসন্ন শীতকালে ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ আসতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে নতুন করে এই নির্দেশনা দেয়ার কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশনা দেয়া হয় যে, মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও সেবা দেয়া হবে না।

এরমধ্যে দিয়ে মূলত সরকারি বেসরকারি অফিস, হাট-বাজার, শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মেলনে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কিন্তু এই নির্দেশনা কিভাবে তদারকি করা হবে সেটা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এ ব্যাপারে মি. হোসেন জানান, বিভাগীয় কমিশনারদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সব অফিসে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে তারা যেন অফিসের বাইরে এ সংক্রান্ত পোস্টার টানিয়ে দেন।

“যেকোনো গণপরিবহনে উঠতে গেলে মাস্ক পড়তে হবে, সরকারি বিভিন্ন অফিস যেমন: ডিসি অফিস, ইউএনও, এসি ল্যান্ড কিংবা ব্যাংকের কোন সেবা নিতে হলেও তাদেরকে মাস্ক পরতে হবে।”

সব সরকারি অফিস এই নিয়ম মানলে বেসরকারি অফিসগুলোও উৎসাহিত হবে বলে জানিয়েছেন মি. হোসেন।

মাস্ক

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল চলতি বছরের মার্চে।

এরপর কয়েক মাস সাধারণ মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থায় গেলেও পরবর্তীতে তাদেরও মধ্যে মাস্ক পরার ক্ষেত্রে এক ধরণের শিথিলতা দেখা যায়।

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। বের হলেও অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

না হলে জরিমানা গুনতে হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নিয়ে কিছুদিন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা দেখা গেলেও পরবর্তীতে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।

সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন যে, বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে আইন ভাঙ্গার প্রবণতা থাকায় তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যথাযথ নিয়ম ও নজরদারি না থাকার কারণে এই শিথিলতা দেখা যাচ্ছে এবং এসব ক্ষেত্রে জন সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে শুধু নির্দেশনা জারি করে কোন লাভ নেই বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ।

তিনি বলেন, “এই নির্দেশনা বাংলাদেশে মাস্ক ব্যবহারে বড় কোন পরিবর্তন আনবে না। কারণ আগেও এ ধরণের প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়েছিল। কোন লাভ হয়নি। এজন্য জন সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে, আর জন সম্পৃক্ততা বাড়াতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সরকার সবাইকে যুক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু নির্দেশনা, লিফলেট, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড মানুষের ব্যবহারে কোন পরিবর্তন আনতে পারে না।”

মাস্ক

মাস্ক ব্যবহারকে মানুষের অভ্যাসে পরিণত করতে আচরণগত পরিবর্তন আনা জরুরি বলে উল্লেখ করেন মি. আহমেদ।

এই “বিহাভেরিয়াল চেঞ্জ কমিউনিকেশন” ধাপে ধাপে কাজ করে বলে তিনি জানান।

অর্থাৎ মানুষকে এই মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান দিয়ে সচেতন করে তুলতে হবে, ধীরে ধীরে আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং এই পরিবর্তন টেকসই করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এর বাইরে শুধুমাত্র কাগজে কলমে নির্দেশনা কোন কাজে আসবে না বলে তিনি জানান।

এদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার বিষয়টি দুইবেলা নামাজের পর প্রচার করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহনে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা সেটাও তদারকি করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

 

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।