করোনা আক্রান্ত স্ত্রীর সঙ্গে আইসোলেশনেই থাকছেন স্বামী

নিউজ ডেস্ক

কি জানি কি হয়- এমন আতঙ্কে স্ত্রীকে কিছুতেই একা ছাড়তে রাজি নয়। তাই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্ত্রীর সঙ্গে আইসোলেশন সেন্টারেই থাকছেন স্বামী।

বুধবার রাতে জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির আইসোলেশন সেন্টারে এ ঘটনাটি ঘটে। চিকিৎসক নার্সরা নানাভাবে বুঝিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ওই ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়ার পর ওই রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে বিশেষ ব্যবস্থায় আইসোলেশনে রাখা হয়। অত্যন্ত ছোঁয়াচে মারাত্মক এ রোগ যাতে কোনোভাবে রোগীর স্বজনদের সংক্রমিত করতে না পারে সে কারণেই আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিকট সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া অন্য কেউ যেতে পারবেন না- এটাই নিয়ম।

কিন্তু আক্কেলপুরের ওই স্বামীকে এ নিয়ম মানাতে না পেরে বাধ্য হয়েই করোনা আক্রান্ত স্ত্রীর সঙ্গে তাকে থাকতে দিতে বাধ্য হয়েছেন আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির আইসোলেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষ। আইসোলেশন সেন্টারের চিকিৎসক-নার্সরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপীনাথপুর ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ইউনিটের দায়িত্বে থাকা কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা.শাহিন রেজা বলেন, বুধবার রাতে করোনায় আক্রান্ত এক নারীকে এখানে আইসোলেশনে আনা হলে তার স্বামীও তার সঙ্গে আসেন। তারা এক সঙ্গে আইসোলেশনে থাকতে চান। স্বামী কিছুতেই তার স্ত্রীকে একা আইসোলেশন সেন্টারে রাখতে সম্মত হননি। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তাদের দুজনকে আইসোলেশনে রাখতে বাধ্য হয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা বলেন, করোনায় আক্রান্ত এক নারীকে আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর আইএইচটি’র আইসোলেশন সেন্টারে আনা হলে তার স্বামী নিজেও তার সাথে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েন। অনেক বুঝিয়েও ওই সময় তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এটা নিয়মের পরিপন্থী ও করোনা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকায় ওই নারীর স্বামীকে আইসোলেশন সেন্টার থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন,ঝুঁকি এড়াতে আইসোলেশনেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যদি কেউ এ নিয়ম না মেনে চলেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, জয়পুরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে জেলার কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্টাফ (নারী) ও এক নৈশ প্রহরীর মাসহ আরও ৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বাকি দুজনের একজন জয়পুরহাট সদর উপজেলা ও অপর জন আক্কেলপুরের অধিবাসী। আক্রান্ত ৪ জনের ৩ জনই নারী।

করোনা আক্রান্তের খবর শুনে আইসোলেশনে পাঠানোর আগেই জয়পুরহাট সদরের আক্রান্ত এক ব্যক্তি (পুরুষ) বউসহ শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।এখনও তাকে খুঁজে পায়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।