ঈদের পর কি দলগত অনুশীলন করতে পারবেন মুশফিকরা?

নিউজ ডেস্ক

শুরুর আগে মনে ছিল রাজ্যের দ্বিধা-সংশয়। কি হবে? করোনার ভেতরে অনুশীলন, সব কিছু ঠিক থাকবে কি? নাকি কোনো সমস্যা হবে? অনুশীলন করতে করতে কেটে গেছে সব সংশয়। বরং টানা ১০ দিন খোশমেজাজে ব্যক্তিগত অনুশীলন করে যারপরনাই সন্তুষ্ট মুশফিকুর রহীম।

জাতীয় দলের এই তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বলেই ফেলেছেন, দারুণ সময় কেটেছে। ঈদের পরও এমনভাবেই অনুশীলন করতে চান তিনি।

আর যেহেতু কোনো সমস্যা হয়নি, তাই মুশফিকের আশা-ঈদের পর ব্যক্তিগত অনুশীলনে খেলোয়াড়ের সংখ্যাও বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় দলের পুরো বহর একসঙ্গে আবার হৈ চৈ করে প্র্যাকটিস শুরু করবেন, সে আশাও করছেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।

এদিকে ঈদের আগে শেষ হয়ে গেল ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনুশীলন। গত ১৯ জুলাই শেরে বাংলা, জহুর আহমেদ চৌধুরী, শেখ নাসের ও সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল এ কার্যক্রম। ২৬ জুলাই পঞ্চম স্টেডিয়াম হিসেবে রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন জাতীয় দলের বাঁহাতি টপ অর্ডার নাজমুল হোসেন শান্ত। ১০ দিনের মাথায় এসে শেষ হয়েছে এ ব্যক্তিগত অনুশীলন।

১০ জন নিয়ে শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনুশীলনে অংশ নেয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ জনে। আস্তে আস্তে সবার মধ্যে ভয় কেটে যাচ্ছে। ফলে একটা প্রশ্ন অবধারিতভাবেই ওঠছে-ঈদের পর কি এমন ব্যক্তিগত অনুশীলনই চলবে, নাকি সবাই মিলে হোম অব ক্রিকেটে নামবেন জাতীয় দলের অনুশীলনে?

এ প্রশ্নের উত্তর যার সবচেয়ে ভালো জানার কথা, সেই বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খান  বললেন, ‘ঈদের পরও এই ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস অব্যাহত থাকবে। আর আপাতত জাতীয় দলের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরুর সম্ভাবনা নেই।’

কেন নেই? ১০ জনে শুরু করা ক্রিকেটারদের ১৪ জন ব্যক্তিগতভাবে ৫ স্টেডিয়ামে তো অনুশীলন করলেন, কোনো শারীরিক বা অন্য সমস্যা তো হয়নি! তাহলে জাতীয় দলের অনুশীলন ডাকায় বাধা কোথায়? এমন প্রশ্নও আছে অনেকের।

আকরাম খান সে প্রশ্নেরও উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। বিসিবির অন্যতম শীর্ষ পরিচালক এবং ক্রিকেট অপস চেয়ারম্যান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে ৩-৪ আর সর্বোচ্চ ৫-৬ জনের একটা গ্রুপ করে এক ভেন্যুতে একজন একজন করে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা অনুশীলন করা আর জাতীয় দলের পুরো বহর একসঙ্গে আর বিদেশি কোচিং স্টাফকে দেশে এনে পুরো সেট আপকে একত্রে করে অনুশীলন চালানোয় বিস্তর ফারাক।

এখন ক্রিকেটাররা নিজেদের ইচ্ছেতে এসে রানিং, জিম আর হালকা ব্যাটিং-বোলিং প্র্যাকটিস করেছেন। বিসিবি থেকে শুরু রোস্টার করে দেয়া হয়েছে। কারও সাথে কারো দেখা হয়নি। কিন্তু একত্রে পুরো দলের অনুশীলন করার অর্থ একটা ব্যাপক সমাবেশ। তথা স্বাস্থ্য ঝুুঁকি। এখন দেশের করোনা পরিস্থতিতে অমনটা করা সম্ভব না।

এ সম্পর্কে আকরাম খানের কথা, ‘আমরা অবশ্যই চাই ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরুক, অনুশীলন করুক। কিন্তু তার আগে দেশের পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হবে। একইসাথে ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বিধানের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা তো আর তাদের অনুশীলনের নামে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারি না।’

আকরাম খান জানান, ঈদের পরও এভাবেই চলবে। মানে ক্রিকেটাররা চাইলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এভাবেই প্র্যাকটিস করে যেতে পারবেন। বড় পরিসরে প্র্যাকটিস শুরুর কথা এখনই ভাবছে না বিসিবি।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের বলেন, ‘পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এখনকার প্রেক্ষাপটে জাতীয় দলের অনুশীলনটা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি এখনকার মত অনুশীলন করতে চায়, তাহলে করবে। আমরা বাধা দেব না। যারা অনুশীলন করতে চাইবে, আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। আমরা ক্রিকেটারদের নাম, সংখ্যা আর ভেন্যু মিলিয়ে রোস্টার তৈরি করে দেব। তবে জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর দিন তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেটা করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। পরিস্থিতি ভালো হবার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাইকে নিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করব।’

 

সুত্রঃ জাগো নিউজ

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।