ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, বিপর্যস্ত মা ও শিশুরা

ইথিওপিয়ার টিগ্রে অঞ্চলের আঠারো মাস বয়সী শিশু হাফটম হাইলে। ঠিকমতো কাঁদতেও পারছে না সে। খাবারের জন্য কাঁদতে যে শক্তিটুকু প্রয়োজন, সেটাও নেই তার শরীরে। ছোট্ট হাফটমের মা গিরমানেশ মেলেস নিজেও অপুষ্টিতে ভুগছেন। একমাস হলো খাবার শেষ। এখন সন্তানের জন্য বুকের দুধটুকুও নেই তার। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর চলমান সংঘাতের ১০ মাস কেটে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এ অঞ্চলে। জুলাইয়ের প্রথমভাগে শুরু হওয়া এ সংকট আগে শুধু টিগ্রের গ্রামাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা পৌঁছে গেছে মেকেল পর্যন্ত।

মেলেস জানান, একমাস হলো সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন চার-পাঁচদিন না খেয়ে থাকাটাও স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতো অনেকেই এখন বেঁচে আছেন আত্মীয়-স্বজনদের দান করা সামান্য পরিমাণ খাবার খেয়েই। তিনি জানান, দুই সপ্তাহ আমি গ্রামেই ছিলাম। ভেবেছিলাম, কেউ না কেউ তো সাহায্য করবে। কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। সবার অবস্থাই আমাদের মতো।

খাবার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশু সন্তানকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত চলতি মাসের ১১ তারিখ আরাগুর থেকে হেঁটেই মেকেলের টিগ্রে ফ্ল্যাগশিপ আইডার রেফারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন মেলেস। জানান, আমার আত্মীয়রা আমাকে গ্রামেই থাকতে বলেছিল। বলেছিল, হাসপাতালের করার কিছুই নেই। কিন্তু দিন দিন চোখের সামনে আমার সন্তান রুগ্ন আর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। মা হয়ে চোখের সামনে আমি বসে বসে সন্তানের মরে যাওয়া দেখতে পারি না।

আইডার হাসপাতালের কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্রা গেব্রেগজাব জানান, গত দুই মাসের মেকেলের প্রধান হাসপাতালগুলোতে গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা ৬০ শিশু এসেছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ শিশু। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইথিওপিয়ার টিগ্রে অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে চার লাখের বেশি মানুষ বিপদগ্রস্ত রয়েছে। দুর্ভিক্ষের ফলে অন্তত ৩৩ হাজার শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এ ছাড়া আট মাসের এই সংঘাতে আরও ১৮ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ইথিওপিয়ায়। প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

গত বছরের নভেম্বরে ইথিওপিয়ার সরকার টিগ্রে অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া টিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সরকারকে সহযোগিতা দিতে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইরিত্রিয়াও৷

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ