নাটোরের হালতিবিলে বোরো ধানে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমনে দিশেহারা কৃষক

April 17, 2017 at 4:30 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক,নাটোর:
দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের পর এবার উত্তরের জেলা নাটোরের হালতিবিলে বোরো ধানে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে। বোরো ধান ঘরে তোলার শেষ মুর্হুতে ব্লাষ্ট রোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার চাষীরা। এবার বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে বলে জানান কৃষকরা। তবে বোরো ধানে ব্লাষ্ট রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগ রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ দিলেও সে পরামর্শ কাজে আসছেনা। এদিকে, চলতি মাসে গত দুই দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে আধা-পাকা ধান জমিতে লুটে পড়েছে। এতে ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

 
সরেজমিনে হালতিবিল ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার হালতি, খোলাবাড়িয়া, খাজুরা, করেরগ্রাম, কুচকরি, পাটুল, বাঁশিলা, তেঘড়িয়া, একডালা, সোনাপাতিল এলাকার অধিকাংশ মাঠে বোরো ধানের শীর্ষে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে। এই রোগের কারনে ধানের পুরো শীর্ষ মরে চিটা হয়ে যাচ্ছে। ধান পাকার শেষ সময়ে হঠাৎ করে এই রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষীরা।

 
কথা হয় বাঁশিলা এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান এর সাথে। এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপন করেন। এর মধ্যে খাটো- ১০ (স্থানীয় ভাষায়) জাতের ধান রোপন করেন পাঁচ বিঘা জমিতে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে দেখছে ধানের শীর্ষ মরে সাদা হয়ে যাচ্ছে। পুরো শীর্ষ মরে চিটা হয়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে তার।


খলিলুর রহমান বলেন, হালতি বিলে প্রতিবছর এমন রোগের কারনে কৃষকরা ক্ষতির সম্মূখিন হয়। কিন্তু কৃষি বিভাগ রোগ প্রতিরোধে কোন প্রদক্ষেপ নেয় না।

 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হালতিবিলের উপজেলার বাঁশিলা ও সোনাপাতিল এলাকার অন্তত ২৫-৩০ জন কৃষকের শত শত বিঘা বোরো ধানের শীষে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। এছাড়া ওই গ্রামের সালাম প্রামানিকের ৫ বিঘা, রফিক ইসলামের ৪ বিঘা, আলাল হোসেনের ৩ বিঘা, খলিলুর রহমানের ৫ বিঘা, জালাল হোসেনের ৩বিঘা, আব্দুল মান্নানের ৬বিঘা, জয়নাল আবেদিনের ২ বিঘা, আবুল কাশেম এর ২ বিঘা, এনতাজ আলীর ৩ বিঘা জমির খাটো -১০ জাতের ধানে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।


বাঁশিলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল কামাল জানান, আমার বোরো ধান চাষকৃত ১৮ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা জমির খাটো-১০ জাতের ধানে ব্লাষ্ট রোগে অক্রান্ত হয়ে পড়েছে।কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না।

 
আরেক কৃষক আলাল হোসেন বলেন, হালতিবিলে বছরে একটি মাত্র ফসল বোরো ধানের আবাদ হয়। কিন্তু সেই ধানেও জমি রোগের আক্রমন হয়, তাহলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। অনেক টাকা খরচ করেও এবার হয়তো ফসল ঘরে তুলতে পারবো না। বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

 
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, বীজ এবং আবহাওয়া জনিত কারনে বোরো ধানে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন হয়ে থাকে। তবে কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী মাত্র এক হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তবে প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 
তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ জমিগুলো রিকোভার করা সম্ভব নয়, বাকি জমিগুলো যাতে আক্রান্ত না হয় সে জন্য বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স/শ

Print