‘এক দশকে বাংলাদেশে বেশি ইসলামীকরণ হয়েছে’

April 12, 2017 at 4:28 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনের ভেতরে যে এতটা ঘোরতর আপত্তি, সেটি হয়তো অনেকে ধারণাই করতে পারেননি।

মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আলেমদের এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বেশ খোলামেলাভাবেই বলেছেন যে সেখানে ভাস্কর্য স্থাপন করাটা তিনি মোটেও পছন্দ করেননি।

সেই ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবিতে হেফাজতে ইসলাম গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করলেও মনে হচ্ছিল সরকার হয়তো বিষয়টিকে আমলে নিচ্ছে না ।

কিন্তু ভাস্কর্যটি অপসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক ড: আলী রীয়াজ মনে করেন যে এটি শুধুই ভাস্কর্য অপসারণের বিষয় নয়।

এ ধরনের মনোভাব বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, “দেখুন আমি এতে খুব বিস্মিত হইনি। তারা যে এই প্রথমবারের মতো কোন ইসলামপন্থী দলের দাবী মেনে নিলেন বা হেফাজতের দাবী মেনে নিলেন, তাও আমার কাছে মনে হচ্ছে না।”

তাঁর ধারণা সরকার এক ধরনের রাজনৈতিক চাপের মধ্যে আছে। তবে সে চাপ মোকাবেলার জন্য তাদের যে ধরনের আদর্শগত অবস্থান থাকা উচিত সেটা তাদের নেই।

অধ্যাপক রীয়াজ মনে করেন, খানিকটা চাপে পড়ে এবং খানিকটা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সে কারণেই আওয়ামী লীগ হয়তো এ মুহূর্তে হেফাজতে ইসলাম-এর মতো শক্তির সাথে আপোষ করাকে সঠিক বলে মনে করে।

তাঁর বর্ণনায়, “সামগ্রিকভাবে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেটা সম্ভবত তাদের অনুকূলে নেই। সে কারণে তারা তাদের অনুকূলে কিছু কিছু শক্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।”

এর বড় কারণ আগামী সাধারণ নির্বাচন বলে মনে করেন ড. রীয়াজ। তিনি বলেন, বিষয়টি সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অধ্যাপক রীয়াজ মনে করেন, সে কারণে আওয়ামী লীগ তাদের ইসলামের পক্ষে শক্তি হিসেবে দেখাতে চায়। বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে যে অংশটি নিজেদের ইসলামপন্থী মনে করে, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।

এছাড়া কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনেও রাজনৈতিক কারণ দেখছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ভাস্কর্যটি নির্মাণের আগে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

“আপনি একটা ভাস্কর্য স্থাপন করছেন এবং পরে বিতর্কের মুখে পশ্চাদপসরণ করছেন। তাতে করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেটা বিপদজনক,” বলছিলেন অধ্যাপক রীয়াজ।

যদি রাজনৈতিক কৌশলের নামে সাময়িক সুবিধা পাওয়ার জন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কারণে ‘অতি রক্ষণশীল’ ইসলামপন্থী দলগুলো শক্তিশালী হবে বলে তার ধারণা।

“বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির রক্ষণশীল ইসলামীকরণের একটা বড় রকমের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আমার ধারনা গত দশ বছরে বাংলাদেশে সমাজ এবং রাজনীতিতে ইসলামীকরণ যতটা হয়েছে, আগের ১০ বছরে কিংবা আগের ৩০ বছরে সেটা হয়েছে কি-না সে নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে।”

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন পাঠ্য-পুস্তকে পরিবর্তন, ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগ এবং কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিকে সরকারী স্বীকৃতি দেয়া – এ বিষয়গুলোকে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Print