বাঘায় দাম না পেয়ে পদ্মার চরে লাউ গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার

April 8, 2017 at 7:56 pm

আমানুল হক আমান, বাঘা:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরে লাউ-এ দাম না পেয়ে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে চাষিরা সঠিক মূল্য না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উৎপাদন ভালো হওয়া সত্বেও লোকশান গুনছেন চাষীরা। খরেচের টাকা না ওঠায় বাজারজাত না করে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 
সরেজমিনে শনিবার দেখা যায়, লাউ চাষী বুলবুল হোসেন আশানুরুপ দাম না পেয়ে গরুর খাদ্য হিসেবে বস্তা করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে লাউ গাছ উপড়িয়ে জমি পরিস্কার করছেন।

 

লাউ চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতি বছর লাউ চাষ করি। লাউ-এ অন্য আবাদের চেয়ে ভালো লাভবান হওয়া যায়। ফলে চলতি মৌসুমে দেড় বিঘা জমিতে আবাদ করি। ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম নেই। বাজারে নিয়ে গেলে কেউ নিতে চায় না। প্রথম দিকে একটি লাউ চার টাকা থেকে পাঁচ টাকা হিসেবে বিক্রি হয়। বর্তমানে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকা থেকে তিন টাকা। ফলে লেবারের খরচ হচ্ছে না। তাই লাউ কাটতে লেবার না নিয়ে নিজে গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছি।

 
সুরাফ মোল্লা বলেন, আমি ২৫ হাজার টাকা খরচ করে দুই বিঘা জমিতে লাউ চাষ করি। গাছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লাউ ধরেছে। প্রতিটি লাউ দুই টাকা থেকে পাঁচ টাকা হিসেবে বিক্রি করেছি। তিন থেকে চার হাজার লাউ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ফলে ১৫ হাজার টাকা লোকশান হয়েছে।

 

এছাড়া লাউ চাষী রবিউল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, সাজদার রহমান, বাদশা হোসেন, সুরুজ আলীর লাউ চাষে লাভ না হওয়ায় গাছ কেটে জমি পরিস্কার করছেন আগাম পাট চাষ করার জন্য।

 
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, উপজেলায় সব্জির আবাদ হয়েছে ৬৩০ হেক্টর। এরমধ্যে পদ্মার চরে লাউ চাষ হয়েছে ১৫০ হেক্টর। তবে চাহিদার চেয়ে উৎপান ও বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম কিছুটা কম পাচ্ছে চাষিরা।

স/অ

Print