নওগাঁয় এলজিইডির উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

January 11, 2017 at 7:18 pm

কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর করিয়ে মন্ত্রণালয়ের আদেশ লংঘন ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সচিব, এলজিইডি বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রশাসন রাজশাহীসহ বিভিন্ন দপ্তরের অনুলিপি প্রেরন করা হয়েছে।

 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের ‘ইউডিএ’ বিভিন্ন সময় নানা দূর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন। সর্বশেষ গত ২ মাসের ব্যবধানে ‘ইউডিএ’ নির্বাহী প্রকেশৗলীকে গত বছরের ২১ আগষ্ট স্মারক ৪৬.০৬৭.০১৫০০.০৬৬.২০১৫-৭০৯ এর তথ্য গোপন করে জেলায় ১৬তম গ্রেডের কার্যসহকারীদের নিয়মিত বদলী করছেন। যদিও তিনি একই চিঠির কথা উল্লেখ করে ১০ম গ্রেডের উপরের কর্মকর্তাদের শান্তি ও চিত্রবিনোদন ছুটি ও ভাতা অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থের বিনিময়ে বদলীর ব্যাপারে দেয়া মন্ত্রণালয়ের আদেশ গোপন করে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভূল বুঝিয়ে গত কিছু দিনে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

 
এ অনিয়মের ফলে যে কোন মূর্হুতে বিষয়টি আইনগত চ্যালেঞ্জে পরতে হতে পারে এবং বদলিকৃত কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি হিসাব রক্ষণ অফিস কর্তৃক বন্ধ থাকতে পারে। কর্মচারীদের চাকুরি জীবনে সমস্যা হতে পারে। উচ্চমান সহকারীর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেনামে অভিযোগীকারী ওই ব্যাক্তি বিষয়টি যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবী জানিয়েছেন।

 
গত বছরে ২১ আগষ্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পনে এক পরিপত্র করা হয়। সেখানে বলা হয় নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনস্থ জেলার অভ্যন্তরে ১৭-২০ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বদলী করতে পারবেন। কিন্তু চলতি বছরের ২ জানুয়ারী এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী একে.এম বাদশা মিয়া স্বাক্ষরিত ১৬তম গ্রেডে কার্যসহকারী আব্দুল মমিনকে জেলার বদলগাছী থেকে পোরশা এবং আব্দুর রশিদকে পোরশা থেকে বদলগাছী উপজেলায় নিয়মিত বদলী করেছেন।

 
ইতোপূর্বে জেলার বদলগাছী উপজেলার অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্তকালে ‘বিউটি কনস্টাকশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ভূয়া চালানোর মাধ্যমে ‘ইউডিএ’ নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভূল বুঝিয়ে নবায়ন করান যা তদন্তে ধরা পরে এবং ‘ইউডিএ’ পরবর্তীতে অনেক দেন-দরবার করে বিষয়টি ধামা-চাপা দেন।

 

কার্যসহকারী আব্দুল মমিন বলেন, নতুন কর্মস্থলে যোগাদানের অপেক্ষায় আছেন। এটার জন্য সম্পন্ন দায়ী ‘ইউডিএ’। টাকার বিনিময়ে  অনিয়ম  করেছেন। এরকমভাবে তিনি দীর্ঘদিন থেকে অহেতুক হয়রানি করছেন এর সুরহা হওয়া দরকার।  ন আব্দুর রশিদ বলেন,তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বদলীর বিষয় কর্মকর্তারাই ভাল জানেন।

 

উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী যেটা পারবেন সেটাই করবেন। আর একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীকে বদলী করতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কোন সমস্যা নাই। কোন নির্বাহী প্রকৌশলী না জেনে শুনে কোন কিছু করেননা।

 
নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, কোন অফিসার তো না জেনে কোন কিছু সই করেনা। আমার ক্ষমতার কখনো অপব্যবহার করতে পারিনা। সরকারের যেটা নীতিমালা আছে, সার্কুলার দিয়েছে সেটা আমাকে করতে হবে। এরকম বহু অর্ডার আমি করেছি।
স/শ

Print