পুঠিয়ায় সূর্যের উজ্জল বলয় দেখে তোলপাড়

July 13, 2018 at 12:16 am

মইদুল ইসলাম মধু, পুঠিয়া:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় হঠাৎ আকাশে এক বিরল দৃশ্য দেখে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে । সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল বলয়। ঠিক যেন গোলাকার রামধনূ। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বেলা পৌনে ১২ টা থেকেই পুঠিয়ার আকাশে এই বিরল দৃশ্যে তোলপাড় পড়ে যায়।

প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী এই মহাজাগতিক ‘বিস্ময়-বলয়’ পুঠিয়ার আকাশে দেখা যেতেই কৌতুহলি মানুষ দৃশ্যটি ক্যামেরা বন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় সেই ছবি। কেন এমন হলো-তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় নানা আলোচনা।

পথচলতি সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের চোখ তখন আকাশের দিকে। শুধু পথচলতি মানুষই নয়, পুঠিয়ার বিভিন্ন অফিস, বাড়ি থেকেও বাইরে বেরিয়ে আসেন সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। বিরল এই দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে থাকতে।এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পথচলতি কেউ সানগ্লাস পরেই ঊর্ধ্বমুখী। আবার কেউ বা বাড়িতে এসে বালতি, প্লেট খুঁজতে ব্যস্ত। তাতে পানি ভরে আকাশের বিরল দৃশ্য দেখতে।

পুঠিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসমত দৌলা বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বেলা পৌনে ১২ টা থেকে প্রায় দুপুর একটা পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো পুঠিয়ার আকাশের এমন বিরল দৃশ্য। পুঠিয়ার এ প্রবিন সাংবাদিক নিজেও এর আগে কোনদিন এমন দৃশ্য দেখেননি। আকাশের এমন উজ্জল দৃশ্যের পর কিছুক্ষণ বৃষ্টিও হয়েছে। তবে বৃষ্টি কয়েক মিনিটের জন্য স্থায়ী ছিলো।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলে বাতাসের গতি খুব কম থাকলে বরফের কণা একটি নির্দিষ্ট রূপে সজ্জিত হয়। এর ওপর সূর্যের আলো পড়লে প্রতিসরণ ঘটে। তখন সূর্যের আলো সাতটি রঙে ভেঙে যায়। চারপাশে রামধনূর মতো বলয় তৈরি হয়। বরফের ক্রিস্টালের ওপর সূর্যের আলো পড়ে সাতটি রঙে ভেঙে গিয়ে এই বলয় তৈরি হয়। আলোকিত এই বলয়ের নাম “সৌরবলয়”।

বিজ্ঞানীদের মতে, যেহেতু বায়ুমণ্ডলে জমা বরফ কণার জন্যই ওই প্রতিসরণ হয়, তাই এর ফলে পরে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তবে সেই বৃষ্টি কতটা হবে বা তা আদৌ হবে কি না, তা নির্ভর করে জমা বরফ কণার পরিমাণের ওপর।

স/আর

Print