‘রাজশাহীর উন্নয়নে লিটনকে ভোট দিতে হবে’: বললেন ইমাম-আলেমেরা

July 12, 2018 at 11:35 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘খায়রুজ্জামান লিটনের আমলে ইমাম, আলেম ও ওলামারা বেশি সম্মানিত হয়েছেন। তিনি সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। যেকোনো বিপদে তিনি ইমাম, আলেম ও ওলামাদের পাশে দাঁড়াতেন। এখনো তিনি ইমাম, আলেম ও ওলামাদের পাশে আছেন। তিনিই রাজশাহীকে সুন্দর করেছেন, রাজশাহীর উন্নয়ন করেছেন।

রাজশাহীর উন্নয়নে খায়রুজ্জামান লিটনের বিকল্প নেই। এজন্য আমরা সবাই লিটনকে ভোট দিবো। রাজশাহীর উন্নয়ন চাইলে খায়রুজ্জামান লিটনকে ভোট দিতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপশহরস্থ খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের পাশে ‘মেয়র নির্বাচন ওলামা কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ইমাম, আলেম ও ওলামারা।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ মানে ইসলামবিরোধী দল-এই অপপ্রচারটি মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি একেবারে মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং আওয়ামী লীগের কাছে ইসলাম সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, আলেম, ইমাম ও ওলামাদের জন্যে স্থায়ী আমানতের ব্যবস্থা করতে যাই। যাতে সেখান থেকে ইমাম, আলেম ও ওলামারা সুবিধা পায়। এছাড়া মসজিদ কমিটি যাতে কোনো কারণ ছাড়াই ইমামকে বরখাস্ত করতে না পারে সেজন্যে একটি ব্যবস্থা করতে চাই। আপনারা শুধু আমাকে সুযোগ দিন। সুযোগ পেলে আগামীতে আপনাদের কল্যানে কাজ করবো।

ইসলামী ফাউন্ডেশন, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক সৈয়দ আমিন উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আলেম ড. বারকুল্লাহ বিন দুরুল হুদা, মুফতি শাহাদত আলী প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোকাদ্দাসুল ইসলাম, মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, আইয়ুব আলী, রুহুল আমীনসহ শতাধিক ইমাম, আলেম ও ওলামা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আজ সন্ধ্যায় নগরীর শিরোইল কলোনী এলাকায় আশরাফীয়া খানকাহ শরীফ আয়োজিত খানকাহ্ ও মাজার কেন্দ্রিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা কেন শান্তিতে থাকতে পারব না? আমাদের সন্তান কেন চাকরি পাবে না? আমাদের সমাজ কেন মাদকমুক্ত হবে না? রাজশাহীর উন্নয়ন কেন হবে না? এসব প্রশ্ন কেউ তুলিনি। এই প্রশ্নগুলো তুলতে হবে। রাজশাহীর উন্নয়নে সজাগ থাকতে হবে। এমন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে হবে, যাকে দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন করা সম্ভব। আপনারা কেউ অপপ্রচার ও মিথ্যাচারে বিভ্রান্তি হবেন না।

সদ্য বিদায়ী বিএনপির মেয়র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে প্রায় ৮০ কোটি টাকা দেনায় ফেলেছেন উল্লেখ করে সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০০৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ঋণ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। ২০১৩ সালে দায়িত্ব ছাড়ার সময় সিটি কর্পোরেশনের ফান্ডে ৬ কোটি টাকা রেখেছিলাম। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৮০ কোটি টাকা ঋণ করে গেছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র। আমি এই ঋণ নিয়ে চিন্তা করছি না। আমাকে নির্বাচিত করুন, আমি নির্বাচিত হলে এই ঋণ কোনো সমস্যা হবে না। ঋণ কীভাবে পরিশোধ করতে হয়, তা আমি জানি, কীভাবে নাগরিক সেবা করতে হয়, সেটি আমি জানি। আমাকে নির্বাচত হলে নগরীতে শিল্পায়ন হবে, কর্মংস্থানের ব্যবস্থা হবে, ঘরে ঘরে গ্যাস যাওয়াসহ সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে রাজশাহীকে মেগা সিটি হবে গড়ে তুলবো।

আন্জুমান-এ আশরাফীয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মুহাম্মদ হাসিবুল ইসলাম কচি আশরাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুফী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন প্রমাণিক। এ সময় কাটাখালি পৌরসভায় মেয়র মো.আব্বাস আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স/অ

Print