টাকা না দিলে ফাইলে সই করেন না ইউএনও!

July 12, 2018 at 8:42 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনের নামে ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল আলমের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ইউএনও টাকা না পেলে কোনো ফাইলে সই করেন না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনা সীতাকুণ্ডে আগে ঘটেনি বলে দাবি করেছেন। তবে ইউএনওর দাবি, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। তার নামে অন্য কেউ নিলে তিনি এর দায়ভার নেবেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে চট্টগ্রামের কাপ্তাই উপজেলা থেকে বদলি হয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তারিকুল আলম।

অভিযোগ, তিনি এখানে এসেই নানাভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, পরিষদের ঠিকাদারসহ অন্যদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে থাকেন। বিশেষত গত ঈদে তিনি প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঈদ বকশিস গ্রহণ করেন।

এরপর সম্প্রতি তিনি প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার পর তাকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ও তার গাড়িচালক এবং পিয়নের জন্য টাকা আদায় করেন তিনি। যেসব ইউপি চেয়ারম্যান তার চাহিদামতো টাকা দিচ্ছেন তাদের খাতায় কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করছেন আর কোনো চেয়ারম্যান চাহিদা পূরণ না করলে তার খাতায় মান সন্তোষজনক নয় বলে লিখেছেন।

এছাড়া সরকারি ঠিকাদার টাকা না দিলে তার ফাইলেও সই করছেন না। এ অবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদার সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার সরকারি তালিকাভুক্ত ঠিকাদার ত্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ লিয়াকত অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাকখালী সড়কের কাজের ফাইল আটকে রাখেন ইউএনও। পরে ইউএনওর জন্য ৫ হাজার টাকা দেয়ার পর তার ফাইল পাস হয়। আরও কয়েকটি ফাইল টাকা না দেয়ায় আটকে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

এভাবে ইউএনওকে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউএনও গত ৫ জুলাই উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ২৮ জুলাই সৈয়দপুর ও বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন।

উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, গত ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ফাইলসহ দেখেন। যাওয়ার সময় পরিদর্শন ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা নেন। পরে তার গাড়িচালক ও পিয়নের জন্যও টাকা দিতে বলেন।

চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, আগে এভাবে কোনো ইউএনওকে দিতে হয়নি। একজন ইউএনও পরিদর্শন ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা নেবে- তা ভাবতেও খারাপ লাগে।

একই দিন ইউএনও পরিদর্শন করেন বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদ। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন বলেন, ওইদিন আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিসে একটি কাজে ছিলাম। আমাকে ইউএনও ফোন করে পরিদর্শনে আসবেন বলে জানান। আমি নেই জানিয়ে তাকে বসতে বলেছি। এক ঘণ্টার মধ্যে অফিসে আসব বলেছি। কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করে পরিদর্শন বইতে লিখে দিয়েছেন চেয়ারম্যান অনুপস্থিতিসহ নানা অসন্তোষের কথা।

একইভাবে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন আজিজ ১০ হাজার টাকা, সোনাইছড়ির চেয়ারম্যান মুনীর ৫ হাজার টাকা ইউএনওকে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনের শেষে গাড়িচালক অলি আমার কাছে ইউএনওর জন্য সম্মানী চেয়েছেন। তবে ওই সময় আমার কাছে টাকা না থাকায় পরিবর্তীতে পাঠিয়ে দেব বলেছি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন, আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। আর আমার নামে কেউ টাকা নিলে তার দায়দায়িত্ব আমি নেব না। এগুলো সত্য না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন বলেন, আমিও এ ধরনের কথা শুনেছি। কিন্তু এসব সত্য না মিথ্যা, তা আমরা জানি না। তবে আমি সবাইকে বলেছি যে, কাজ শতভাগ করতে হবে। এর জন্য কাউকেই যেন এক টাকাও না দেয়া হয়, এমনকি আমিও যদি টাকা চাই তাহলে আমার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করবেন। সীতাকুণ্ডে এ ধরনের কোনো চর্চা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

Print