হল মেলে না, তাই দীর্ঘ বিরতিতে নাটক

July 11, 2018 at 6:28 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নয় মাস পর ঢাকার মঞ্চে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেখা যাবে রেপার্টরি থিয়েটার দল নাট্যমের ‘দমের মাদার’ নাটকটি। নাটকের নির্দেশক আইরিন পারভিন লোপা প্রথম আলোকে জানান, প্রায় নয় মাস পর নাটকটি মঞ্চে দেখা যাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এমনিতে আমরা রেপার্টরি থিয়েটার চর্চা করি। দলের সবাই অন্য পেশার সঙ্গে জড়িত। তা ছাড়া মিলনায়তনের একটা সংকট আছে। নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাটকের মিলনায়তনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেডারেশনের সদস্য দলগুলো পেয়ে থাকে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে পালাধর্মী এ নাট্য প্রযোজনা। সাধনা আহমদের লেখা এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন আইরিন পারভিন লোপা। এবার নাটকের ৪৮তম প্রদর্শনী হবে। মিলনায়তন মিললে শিগগিরই পরপর প্রদর্শনী করে ৫০তম প্রদর্শনী করার ইচ্ছা আছে বলে জানালেন নির্দেশক।

২০১১ সালের ১০ এপ্রিল নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। ‘মাদার পীরের আখ্যান’ অবলম্বনে রচিত এ নাটকে উঠে এসেছে বাংলার লোক রীতিভিত্তিক ‘মাদার পীরের পালাগান’। এমন একটি সম্প্রদায়কে ঘিরেই নাটকের কাহিনি। উত্তরাধিকার সূত্রে মাদার বন্দনার প্রধান জরিনা বিবি। বছরের পর বছর পালন করে চলছে মাদারের সব আনুষ্ঠানিকতা।

এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি চৌধুরীর দৃষ্টি পড়ে জরিনার ভূসম্পত্তি আর তালুকের ওপর। কিন্তু মাদার ভক্তদের একতার ভয়ে এবং মাদারের অলৌকিক শক্তি সম্পর্কে প্রচলিত জনমতের কারণে চৌধুরী সুবিধা করতে পারে না। তাই সে বিধবা জরিনা বিবির নাতনির সঙ্গে নিজের প্রতিবন্ধী নাতির বিয়ের ফন্দি আঁটে। কিন্তু জরিনা তাতে রাজি হয় না। শুরু হয় দ্বন্দ্ব। জরিনাকে ধর্মবিরোধী বলে অভিযুক্ত করে চৌধুরী। অন্যদিকে মাদার বন্দনার প্রধান গায়েন হারুন জরিনা বিবির নাতনি নূর বানুর প্রেমে পড়ে। নূর বানু উপলব্ধি করে নিজের অজান্তেই গভীরভাবে সে হারুনকে ভালোবেসে ফেলেছে। দমের সাধক নূর বানু তাই স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে নেমে আসে করুণ পরিণতি।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাজমি নূর, শুভাশীষ দত্ত, পরিমল মজুমদার, শিশির রহমান, পারভিন আখতার, শামীমা আক্তার, শরিফ ইসলাম প্রমুখ। তবে কালকের প্রদর্শনীতে তাজমি নূর অংশ নিতে পারবে না ব্যস্ততার কারণে।

‘দমের মাদার’ নাটকে সেট ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন জুনায়েদ ইউসুফ। সংগীত পরিকল্পনা করেছেন পরিমল মজুমদার।

Print