জয়পুরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে রাস্তা নির্মাণ সামগ্রি: ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

July 7, 2018 at 6:56 pm
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে বেগুনগ্রাম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও বেগুনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথে একটি মাত্র মাঠ দীর্ঘ এক মাস ধরে রাস্তার কাজে ব্যবহারকৃত সামগ্রী রেখে দখল করেছে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের বারবার এসব নির্মাণ সামগ্রী সরানোর জন্য অনুরোধ করা হলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত তা সরানো হয়নি বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। প্রতিষ্ঠান দুটির মুল ফটকে ঠিকাদারের লোকজনের এসব স্তুপ করা নির্মাণসামগ্রীর ধুলাবালি, তুস-কাঠের কালো ধোঁয়া, বিটুমিনের পঁচা র্দুগন্ধ, প্লান্ট ও মিকচার মেশিনের বিকট শব্দে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে পাঠদানে প্রতিনিয়ত অমনোযোগী হয়ে পরছেন। এসব কারণে গত এক মাস ধরে প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হারও বেড়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। তাই ঠিকাদারের রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী মাঠ থেকে দ্রুত সরানোর অনুরোধ করেছেন তারা।
কালাই উপজেলা প্রকোশল বিভাগের (এলজিইডি) অধীনে গত অর্থ বছরের কাজ পৗর শহরের পাঁচশিরা বাজার থেকে মোলামগাড়ীহাট পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার মেজর মেইনটেন্স (১২ মিলি সিল কোড) কাজ করছে বগুড়া শহরের ইসলাম ট্রের্ডাস নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার স্বত্তাধীকার বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা মোহন।  তবে সাব ঠিকাদারের দায়িত্বে ওই কাজ করছেন বগুড়া শহরের ভিন্ন একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকার বাবলু মিয়া।
তিনি ওই রাস্তার কাজ গত রমজান মাসে শেষ করার কথা বলে গত ২ মাস ধরে ওই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পাথর কুঁচি, বিটুমিনের ড্রাম, প্লান্ট ও মিকচার মেশিনসহ নির্মাণসামগ্রী রেখেছেন। এতে করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শনিবার সকালে সেখানে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি খোলা দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটির মুল ফটকের সামনে রাস্তা নির্মানের সামগ্রীসহ পাথর-বালু মিশ্রনের প্লান্ট মেশিন ও মিকচার মেশিন বসানো আছে। বিকট শব্দে মেশিন দুটি চলছে এবং পার্শ্বে ছেঁড়া প্লাস্টিকের আর্বজনা, জুতা, কাঠ ও ধানের গুড়া ছিটিয়ে বিটুমিন গলানো হচ্ছে। কালো ধোঁয়ায় একাকার হয়েছে পুরো এলাকা। বিটুমিনের গন্ধে শ্রেণী কক্ষে থাকাত দুরের কথা ওই এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পরেছে। প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে তাদের এ কর্মযজ্ঞ। তাইতো প্রায় এক মাস ধরে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, নির্মাণ সামগ্রীর উপর দিয়ে দুই মাস ধরে তারা অনেক কষ্টে চলাচল করছে। আবার ১০ দিন বিটুমিনের গন্ধে এবং মেশিনের বিকট শব্দে কিছুই শোনা যায় না। তাই অনেকেই প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা ছেড়ে দিয়েছে। আজকেও উপস্থিতি কম।
বেগুনগ্রাম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, অনুমতি না নিয়ে তারা জোর করে রমজান মাসে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে রাতের অন্ধকারে নির্মাণ সামগ্রী রেখেছেন। প্রতিষ্ঠান খোলার পর এসব সামগ্রী সরানোর জন্য তাদেরকে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আজও সরাইনি তারা এসব সামগ্রী।
নির্মাণ সামগ্রী রাখার ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির বিভিন্ন দিক অসুবিধা হয়েছে এমন কথা স্বীকার করে সাব-ঠিকাদার বাবলু মিয়া বলেন, অন্যত্র জায়গা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই প্রতিষ্ঠানের মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে একটু দেরি হয়েছে। তবে আজ-কালের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ হবে। শেষ হলেই সেখান থেকে সবকিছু সরানো হবে।
ওই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মন্জুর রহমান বলেন, আমার দায়িত্ব রাস্তার কাজ বুঝে নেওয়া। আর কিছু নয়। তবে এ রাস্তার কাজ আগামী ২/১ দিনের মধ্যে শেষ হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমি এখন পর্যন্ত কিছুই জানিনা। তবে প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
স/অ
Print