ফুচকা বিক্রেতা থেকে ভারতীয় ক্রিকেটার

July 4, 2018 at 9:21 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ছেলেবেলা থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার শখ ছিল৷ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন জাঁকিয়ে বসেছে দু’চোখে৷ খোলা মাঠ আবার কখনও বা পলিথিনের তাঁবুতে খালি পেটে কাটানো রাতগুলিও যে স্বপ্ন ছিনিয়ে নিতে পারেনি যশস্বী জসওয়ালের চোখ থেকে৷ ১১ বছর বয়সে যে ছেলেটি এক টুকরো উইলো হাতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে হাঁটা লাগিয়েছিলেন, ছ’বছর পর লক্ষ্যে পৌঁছনোর তৃপ্তি তাঁর চোখে মুখে৷ তবে আসল কাজ এখনও বাকি৷ বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের আঙিনায় সবে মাত্র পা দিয়েছেন৷ স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে জসওয়ালকে এখনও অনেক পথ হাঁটতে হবে৷

উত্তরপ্রদেশের ভাদোহিতে একটি ছোট্ট দোকান চালান যশস্বীর বাবা৷ দুই ছেলেকে ঠিক মতো পড়াশোনা করানোর সামর্থ ছিল না৷ তাছাড়া ছোট ছেলের পড়াশোনায় মন ছিল না কখনই৷ ব্যাট-বলের নেশায় মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তাঁর রোজনামচা৷ দারিদ্র আর পদে পদে প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই চানানো সেই ছেলেই আজ অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য৷ শ্রীলঙ্কা সফরে উড়ে যাওয়ার আগে ফেলে আসা দিনগুলির দিকে ফিরে তাকালেন যশস্বী নিজেই৷

১১ বছর বয়সে উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে মুম্বইয়ে এক কাকার কাছে চলে আসেন যশস্বী৷ তবে ঠাঁই হয়নি কাকা সন্তোষের বাড়িতেও৷ ওরলির বাড়িটা এতই ছোট ছিল যে, সেখানে এক আগন্তুকের জায়গা হওয়া মুশকিল৷ কাজের সূত্রে মুসলিম ইউনাইটেড ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সন্তোষ৷ তিনিই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন যশস্বীকে ক্লাব তাঁবুতে রাত কাটানোর অনুমতি দিতে৷ অনুমতি মেলে৷ পরের তিন বছর আজাদ ময়দানের মুসলিম ইউনাইটেড ক্লাবের পলিথিনের তাঁবুই ছিল জসওয়ালের রাত্রীকালীন ঠিকানা৷

Print