আপনার শিশু

শিশুর জন্য ইন্টারনেট?

July 2, 2018 at 7:07 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ইন্টারনেটের কল্যাণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। একই সঙ্গে কিন্তু এর বেশ কিছু খারাপ দিক আছে, যা একেবারেই উপেক্ষা করার মতো নয়। ইন্টারনেটের সুফল পেতে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের বিকল্প নেই। বয়সভেদে ব্যবহারের সীমারেখা থাকতে হবে। অভিভাবকদের প্রথমেই ভাবতে হবে, ইন্টারনেট শিশুর জন্য কতটুকু দরকার বা আদৌ দরকার আছে কি না। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা যেন শিশুকে বিপদের দিকে ঠেলে না দিই, সেই দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

আসক্তির কারণ
শিক্ষার প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা আর ইন্টারনেট আসক্তি দুটি একেবারেই ভিন্ন বিষয়। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। ইন্টারনেট সম্পর্কে অভিভাবকদের অজ্ঞতা, অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে বর্তমানে শিশুরা বিভিন্নভাবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। একেবারে ছোটবেলা থেকে শিশুকে সহজে সামলানোর জন্য বা শান্ত রাখার জন্য মা-বাবা তাদের হাতে তুলে দেন স্মার্টফোন, ট্যাব ইত্যাদি। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ফোন বা ট্যাব ছাড়া শিশুকে সামলানো যাচ্ছে না। না দিলেই শুরু হয়ে যায় রাগ, জিদ, চিত্কার কিংবা ভাঙচুর। অনেক সময় মা-বাবা নিজেরাই দিনের অনেকটা সময় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মগ্ন থাকেন এবং শিশুরা তো দেখেই শেখে।

নেতিবাচক প্রভাব
মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে শিশুর সময়জ্ঞান লোপ পায়। খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা, হোম ওয়ার্ক—কোনো কিছুর খেয়াল থাকে না। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কোনো কাজের কথা বললে শিশু রেগে যায় বা বিরক্ত হয়। অর্থাৎ ধীরে ধীরে শিশু অস্থির ও অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। পড়ালেখার মান খারাপ হয়, হতাশায় ভুগে অস্থির ও খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়। একটু বড় শিশুদের নতুন নতুন অনলাইন বন্ধু হতে থাকে। বাস্তব জীবনের বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। ফলে ছোটবেলা থেকেই তাদের সামাজিক যোগাযোগ কম হয়, যা শিশুর আচার-ব্যবহারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু হতে পারে আত্মকেন্দ্রিক ও অসামাজিক। শারীরিক খেলাধুলা ও অন্যান্য শিশুর সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণ মেলামেশা না হলে শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে বাধা দেয়। দৈনন্দিন সাধারণ সমস্যা সমাধান করতে পারে না, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে পারে। শিশু অলস ও শারীরিকভাবে দুর্বল হতে পারে। অধিক ওজন বা ওবেসিটি, চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক ছবি ও ভিডিও দেখে অসুস্থ চিন্তার দিকে ধাবিত হয়, যা সবচেয়ে ভয়ংকর।

প্রতিকার ও করণীয়
শিশুকে ইন্টারনেটের খারাপ প্রভাব থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার কাছ থেকে কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময় না পাওয়ার ফলে শিশু ইন্টারনেটে বেশি আসক্ত হয়। শুধু শিশুর আশপাশে থাকলে হবে না, তার সঙ্গে একটিভ থাকতে হবে। শিশুর সামনে বড়রা প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন শিশুকে নিয়ে পার্কে যান। প্রকৃতির সান্নিধ্যে খেলাধুলা ও বিভিন্ন ফিজিক্যাল একটিভিটি করান। খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই শিশুর জীবনে। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও শিশুকে খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে। ছবি আঁকা, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ছোটবেলা থেকেই নিয়ম করে একবেলা শিশুকে বই পড়ে শোনান। অভিভাবককে শিশুর বন্ধু হতে হবে। শিক্ষার প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে সময়সীমা বেঁধে দেবেন। সম্ভব হলে এই সময়টুকু শিশুর পাশে থেকে তাকে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন। স্কুলগামী শিশুদের হলে হোম ওয়ার্ক শেষ হলে তবেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে ট্যাব, মোবাইল—এসব থেকে দূরে রাখতে হবে। নিরাপত্তামূলক কিছু ওয়েবসাইট আছে, সেগুলো ব্যবহার করুন। এতে শিশু প্রাপ্তবয়স্ক সাইটে ঢুকতে পারবে না।

একবার আসক্ত হয়ে গেলে শিশুর প্রতি ধৈর্যশীল হতে হবে। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে শিশুর সময়গুলোকে আনন্দদায়ক করে তুলুন।

Print