অকালে ঝরলো শিউলী

June 14, 2018 at 3:21 pm

শাহিনুল ইসলাম আশিক:

শিউলীর বয়স ১২ কি ১৩ হবে। নগরীর শালবাগান এলাকার ইউসেফ স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াতো। এলাকার সামিউল বাসার জয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে পালিয়ে জয়ের নানা বাড়িতে বিয়ে হয় তাদের। অতপর আট মাসের মাথায় শিউলীর আত্মহত্যা।

শিউলীর ১২-১৩ বছরের কি দেখে বিয়ে দিলো কাজী। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মধ্যে নওদাপাড়া এলাকার মানুষে মধ্যে। স্থানীয়রা বলছে, তারা পালিয়ে গেলো। এতো অল্প বয়সে কাজী কি এমন কাগজপত্র দেখে বিয়ে দিলো তাদের। জন্ম নিবন্ধনের কাগজ দেখেছে না টাকা দেখে বিয়ে দিয়েছে?

গত মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর নগরীর শালবাগান এলাকার স্বামী জয়ের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শিউলী। এঘটনায় ওই গৃহবধুর স্বামী সামিউল বাসার জয়কে আটক করেছে পুলিশ।

শিউলি খাতুন নগরীর মধ্যে নওদাপাড়া এলাকার মকলেসুর রহমানের মেয়ে। তাদের গ্রমের বাড়ি নওগাঁয়। শিউলীর মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষ গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় সাতটার দিকে দাফান করা হয় বলে শিউলী বড় ভাই সোহলে জানায়।

সামিউল বাসার জয় জানায়, ‘তার স্ত্রী শিউলী মাঝে মধ্যেই বলতো আমি তোর ভাত খাবো না। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হতো। মঙ্গলবার ঠিক এমনটিই ঘটেছিলো।

শিউলীর মা চায়না বেগম জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে জামাই এর বাড়িতে ঈদের সেমাই চিনি দিতে গিয়েছেলেন তিনি। বাসায় গিয়ে দেখেন জামাই ও মেয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডার চলছে। পরে তিনি তাদের বুঝিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে জয় বাধা দেয়। পরে তিনি একাই চলে আসেন।

তিনি বলেন, শিউলী তার মাকে বলে, ‘তুই আমাকে নিয়ে যা। না হলে আমি কোন কিছু করে ফেলবো।’ বলে শিউলী উঠে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেয়। এর পরে তিনি চলে আসেন। পরে রাত আট টার দিকে শিউলীর বাবা মোকলেস ফোন করলে জয়ের পরিবার থেকে বলা হয়, শিউলী ভালো আছে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাদের ফোন দিয়ে বলে শিউলী আত্মহত্যা করেছে।

শিউলীর বোন মৌসুমি বলেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পরে বিয়ে হয়। মাত্র আট মাস আগে তারা ছেলের নানা বাড়িতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এসময় শিউলী নিখোঁজ হয়েছে এমন অভিযোগে পরিবার থেকে সাধারণ ডায়েরী করা হয়।

তিনি আরো বলেন, তিন মাস পরে খোঁজ পাওয়া গেলে শোনা যায় শিউলীর বিয়ে হয়েছে জয়ের সঙ্গে। পরে শিউলী ও জয়কে মেনে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পারিবিারিক ভাবে যাওয়া আসা হতো। তবে শিউলীকে জয় তাদের সঙ্গে কথা বলতে দিতো না।

চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানায়, এই ঘটনায় শিউলীর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এছাড়া নিহত শিউলীর মরদেহ রামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে তার লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

 

স/আ

Print