বাঘায় জমেছে জুতা-স্যান্ডেলের কেনাকাটা

June 14, 2018 at 2:23 pm

আমানুল হক আমান, বাঘা:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার জুতা-স্যান্ডেলের দোকানগুলোতে পবিত্র রমজানের ১০ রোজার পর থেকে শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটার উৎসব। রমজানের ২৮ তম দিন পার হয়ে গেল গতকাল বৃহস্পতিবার। ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের জন্য জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি চলছে জুতা-স্যান্ডেল কেনাকাটা। সেই সুবাদে ভিড় জমেছে জুতা-স্যান্ডেলের দোকানগুলোতে।

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে পছন্দের জুতা-স্যান্ডেল কিনছে ক্রেতারা। সারা বছরে যে পরিমাণ জুতা-স্যান্ডেল বিক্রি হয় তার দ্বিগুণ বিক্রি হয় এই ঈদে। সেদিক বিবেচনায় বিক্রেতাদের থাকে বাড়তি প্রস্তুতি। দাম একটু বেশি দিয়ে জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে কিনছে মধ্য ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। অনেক ক্ষেত্রে দরদামের ঝামেলা এড়িয়ে নির্ধারিত দামের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে তারা।

স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা কারখানায় তৈরি জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা গত বছরের ঈদ বাজারের তুলনায় এবার বেড়েছে। উপজেলার বাঘাা পৌরসভার মজিবর প্লাজা, সাত্তার প্লাজা, নিউ আর প্লাজা, মাজেদা প্লাজা, এরাদ আলী সুপার মার্কেট, ডাইমন্ড প্যালেস, রূপায়ন সুপার মার্কেট ও আড়ানী বাজারের মনি মার্কেট, জনতা মার্কেট, গোরস্থান মার্কেট, মোমিন সুপার মার্কেট, শাহ্মুখদুম মার্কেট, রহমান সুপার মার্কেট, বুলবুল সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

এবার ঈদ বাজারে আমদানীকৃত মেয়েদের জুতা-স্যান্ডেলে রয়েছে উজ্জ্বল রং, পুঁতি ও পাথরের কাজ। দাম ২৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি। এসব জুতা-স্যান্ডেলের গুণগত মান যাচাই না করে কিনছে অনেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার আড়ানী পৌর বাজারের নয়ন মনি মার্কেটের আজের সুষ্টোর থেকে এক জোড়া বার্মিজ স্যান্ডেল কিনেছেন বাউসা কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মৌসুমি আক্তার। তিনি জানান, ‘আমার লেহেঙ্গাটি লাল রঙের। খালামণিকে নিয়ে অনেক মার্কেট ঘুরে ঈদের ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচ করে এই স্যান্ডেল পেয়েছি। আম্মু জুতা কিনতে এক হাজার ২০০ টাকা দিয়েছে। তাতে অবশ্য হয়ে গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আহম্মেদ জানান, এক জোড়া এক হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেন। কোয়ালিটি ভালো। তাই দাম একটু বেশি হলেও কিনলাম।

পাদুকা সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান জানান, এখনকার তরুণ-তরুণীরা আধুনিক এবং সুন্দর জিনিস কিনতে চায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে জুতা-স্যান্ডেলের ডিজাইন ও গুণগত মান সম্পর্কে জানতে পারছে। তা থেকে পছন্দ করা ডিজাইনের জিনিস কিনতে ভিড় জমাচ্ছে। আর ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীরাও জোগান দিচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কারখানার জুতা-স্যান্ডেল বিক্রি হয়। সব বয়সের মানুষের জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা থাকলেও এবার বাচ্চাদের জুতা-স্যান্ডেলের বিক্রি বেশি।

দিঘা গ্রামের মিলন আহম্মেদ নামের এক ব্যবসায়ী তার ১২ বছরের ছেলের জন্য জুতা ও পাঁচ বছরের মেয়ের জন্য স্যান্ডেল কিনেছেন। তিনি জানান, ছেলের জন্য এক হাজার টাকায় কেডস এবং মেয়ের জন্য ৫০০ টাকায় স্যান্ডেল কিনেছি। এসব জুতা-স্যান্ডেল দেখতে সুন্দর। তবে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা কারখানায় তৈরি জুতা-স্যান্ডেলের বিক্রি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কম আয়ের মানুষ মূলত এসব জুতা-স্যান্ডেলের ক্রেতা।

আজের সুষ্টোরের মালিক আজের উদ্দিন জানান, এবার ঈদে ১০ রমজানের পর থেকে স্থানীয় কারখানার জুতা-স্যান্ডেল বেশি বিক্রি হয়েছে। জুতার কারখানা থেকে পাইকারি কিনে এনে খুচরা বিক্রি করি। ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান।

 

স/আ

Print