রাজশাহীর বাজারে গভীর রাতেও চলছে ঈদের কেনাকাটা

June 14, 2018 at 11:42 am

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দিনে প্রখর রোদের তাপ, ভ্যাপসা গরম। রয়েছে যানজট, মানুষের ভিড় ও হৈ-হট্টগোল। আবার দিনের বেলায় কাজের চাপও থাকে প্রচুর। তাই অনেকেই পছন্দ করেন দিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে ধীরে-সুস্থে রাতের বেলায় ঈদ বাজার করতে। তাইতো শেষ মুহূর্তে এসে নগরের মার্কেটগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। বলা যায়, রাতেও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সাধারণত নগরীর মার্কেটগুলো ১০টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সেই মার্কেটগুলোই এখন খোলা থাকছে গভীর রাত পর্যন্ত। ধুমসে কেনাকাটা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত। এদিকে দোকানের হিসাব-নিকেশ করে দোকান বন্ধ করতে রাত তিনটা থেকে চারটা বেজে যাচ্ছে দোকানিদের। সে হিসেবে বলা যায়, নগরীতে রাতভর চলছে কেনাকাটা। দিনের তুলনায় ভিড়-বাট্টা কিছুটা কম হলেও গভীর রাত পর্যন্তই লেগে থাকে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। নগরীর নিউমার্কেট, আরডি মার্কেট ও সাহেবাজারের দোকানগুলো খোলা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। দেখে মনে হয়, যেন জেগে রয়েছে রাতের নগরীও।

নগরীর নিউমার্কেটের সামনের অ্যাপেক্সের দোকানে গত সোমবার রাত ১২টায় স্ত্রী- সন্তানসহ  জুতা কিনতে এসেছেন প্রকৌশলী মোজাহার আলী। তিনি বলেন, দিনে অফিস করতে হয়। অফিস করে এসে ইফতারের প্রস্তুতি নিতে নিতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তারপর ইফতার সেরে মাগরিবের নামাজ পড়তে পড়তে সাড়ে সাতটা বেজে যায়। রাত সাড়ে ৮টায় আবার ঈশা ও তারাবির নামাজ। নামাজ শেষ করতে করতে ১০টা বেজে যায়।

দেখা যায়, ঈদের বাজার করার সময় পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়েই রাতে বের হয়েছি বাজার করতে।
ফ্যাশন হাউজ ‘দর্জিবাড়িতে’ কথা হয় আনিকা তাবাসসুমের সঙ্গে। তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এমনিতেই রাজশাহীতে ভ্যাপসা গরম। দিনে রোদের তাপও প্রচ-। তাই রাতেই কেনাকাটা করতে ভালো লাগে। আর রাতের পরিবেশটাও চমৎকার থাকে। ভিড়-বাট্টা কিছুটা কম থাকে।

আরডি মার্কেট থেকে প্যান্ট ক্রয় করেন আতিকুর রহমান। তিনি জানান, রোদের কারণে দিনে বাসার বাইরে বের হতে একটুও ভালো লাগে না। তাই রাতেই বাজার করতে যাই। আর সব বন্ধুরা মিলে বাজার করতেও আনন্দ লাগে।

ঈদ উপলক্ষে প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটাতে হয় বিক্রেতাদের। ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই খোলা রাখতে হয় মার্কেটগুলো। নগরীর নিউমার্কেটের দোকানদার কুদ্দুস মিয়া জানান, দোকান বন্ধ করতে করতে গভীর রাত হয়ে যায়। বেচাকেনা করতে করতে রাত ২টা বেজে যায়। তারপর হিসেব-নিকেশ করে দোকান বন্ধ করতে রাত ৩টা বেজে যায়। আবার সকাল ৯টায় দোকান খুলতে হয়। বেচাবিক্রি যাই হোক দোকান খোলা রাখছি। অনেক সময় দিনে তেমন ক্রেতা আসে না। আবার দেখা যাচ্ছে রাতে ভালো বিক্রি হচ্ছে।

 

Print