জয়পুরহাটে সেমাই এর খাঁচা তৈরীতে ব্যস্ত মাহালী সম্প্রদায়

June 7, 2018 at 6:29 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক,জয়পুরহাট:
রমজানের রোজা শেষে ইফতার আর ঈদের দিনে খাবারের সু-স্বাদু উপাদেয় সেমাই। আর দোকানে সেই সেমাই রাখার জন্য ব্যবহার হয় বাঁশের খাঁচা। জয়পুরহাটের মাহালী সম্প্রদায় এখন ভীষন ব্যাস্ত এ খাঁচি তৈরীতে। সারা বছর তেমন তাদের কাজ না থাকলেও এই এক মাস তাদের দম ফেলানোর সময় নাই। সরকারীভাবে সহযোগিতা পেলে কুটির শিল্পের এ কারিগররাও নিজেদের ভ্যাগোন্নয়নসহ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করেন এখানকার সচেতন মহল।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মাহালী পরিবারের বাস। বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন জিনিষপত্র বানিয়ে বিক্রি করে কোন রকমে চলে তাদের সংসার। তবে রমজান এলেই বেড়ে যায় তাদের কাজের পরিধি। সেমাই তৈরীর খাঁচি বানাতে দিন রাত চলে তাদের হাত।

খাঁচা তৈরি কারীগর জয়পুরহাট সদর উপজেলার খনঞ্জনপুরের নিখিল চন্দ্র পাঁচবিবি উপজেলার উচায়ের অমিত মন্ডল, ক্ষেতলাল দাশড়া শিকর চন্দ্রসহ খাচি কারিগররা সিল্কসিটি নিউজকে জানান, বাঁশের দাম বেশী হওয়ায় কাঙ্খিত লাভ টিকছে না তাদের। ঈদ উপলক্ষে খাঁচা তৈরি করে যে লাভ হয় তা দিযে চলে পরবর্তী দুমাস । আমাদের বাপ-দাদারা এ পেশায় ছিল আমরা সে পেশায় আছি, লাভ খুব একটা না হলে ও আমরা এ পেশাকে ধরে রেখেছি।


বছরে একবার সেমাই রাখার বাঁশের খাঁচি যেমন মাহালী সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য আর্শিবাদ, তেমনই এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মৌসূমী খাঁচি ব্যাবসায়ীদের বেড়ে যায় আনাগোনা। ব্যাবসায়ীরা জয়পুরহাটের তৈরী এই সেমাই রাখার খাঁচি নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

জয়পুরহাট সদরের খনঞ্জনপুরের মহন্ত পাল পাঁচবিবি উপজেলার দমদমার নারায়ণচন্দ্রসহ সেমাইয়ের খাঁচা ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার খাঁচা চাহিদা বেশী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা,বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী , দিনাজপুর সহ অনেক জেলাতে খাঁচা পাঠাচ্ছি। ভালো লাভও হয় বলে জানালেন খাঁচা ব্যাবসায়ীরা।

জয়পুরহাট বিসিক উপ-ব্যবস্থাপক আকতারুল আলম চৌধুরী সিল্কসিটি নিউজকে জানান, কোন সরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে মাহালী সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই বাঁশের খাঁচা সহ বাড়ি-ঘরের নানা আসবাব পত্র তৈরী ও বিক্রি করে টিকে আছেন কোন রকমে। তারপরেও সরকারি সহয়তার আশ্বাস শোনালেন জেলা কুটির শিল্পের অভিভাবক বলে পরিচিত এই বিসিক কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে প্রয়োজন হলে অদুর ভবিষ্যতে ঋণ সহায়তা ছাড়াও প্রশিক্ষন দেওয়া হবে বলেও জানান বিসিক উপব্যবস্থাপক।
স/শ

Print