গোপাল ভাঁড় আসলে কে? রহস্য উন্মোচনে গোপালের বংশধর

June 5, 2018 at 12:47 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

গোপাল ভাঁড়। যে নামটা শুনলেই হাসতে হাসতে বাঙালির পেটে আজও খিল ধরে। চটি বইপত্রে যার কাহিনি পড়তে গিয়ে উদ্ভট কীর্তিকলাপ আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা অন্তর্ঘাতের বিবিধ অনুষঙ্গ। সেই গোপাল ভাঁড় বলে কি সত্যিই কেউ ছিলেন?

কিংবা, আসলে কী ছিল গোপালের পদবি? গোপালের বাবার নামই বা কী? গোপালের কি কোনও সন্তানাদি হয়েছিল? নাকি সবই জনশ্রুতি, লোকমুখে জন্ম নেওয়া কাহিনি? এই নিয়ে বাঙালির মনে অনেক দিনের প্রশ্ন। ঐতিহাসিকরাও এর কোনও নিশ্চিত সদুত্তর দিতে পারেননি।

তবে, নানা অনুমান অবশ্যই আছে। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় বিদূষক হিসেবে গোপালের উপস্থিতি বাস্তবিকই ছিল বলে একাংশের ধারণা। অনেকে বলেন, গোপাল নামে কেউ-ই ছিলেন না, কিন্তু কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ছিলেন অতি সুচতুর একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের সম্মিলিত রূপই জনমানসে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে গোপাল ভাঁড় হিসেবে।

কিন্তু দীর্ঘদিনের এই বিতর্কের মাঝে সরাসরি কেউ যদি বলেন— ‘গোপাল ভাঁড় তো ছিলেন বটেই, এবং আমিই তাঁর বংশধর!’ কতকটা এমন দাবিই করেছিলেন নগেন্দ্রনাথ দাস। ‘নবদ্বীপ-কাহিনী বা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়’ নামে একটি বইও লিখে ফেলেন তিনি।

গোপাল ভাঁড়কে নিয়ে নগেন্দ্রনাথ দাসের বই। নিজস্ব চিত্র

এ বইয়ে তিনি জানাচ্ছেন, ‘ভাঁড়’ নয়, গোপালের পদবি ছিল ‘নাই’। তাঁর ঠাকুর্দা ছিলেন ‘আনন্দরাম নাই নামে এক পরম তান্ত্রিক সাধক।’ আর গোপালের বাবা আনন্দরাম নাই, পেশায় ছিলেন নাপিত। তবে, গোপালের বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়েই নদিয়ারাজ তাঁকে সভার অন্যতম রত্ন হিসেবে স্থান দেন। তখন গোপালের উপাধি হয় ‘ভাণ্ডারী’। ‘ভাণ্ডারী’ থেকে অপভ্রংশেই ‘ভাঁড়’! গোপাল ভাঁড়!


গ্রাফিক্স: অভিজিৎ বিশ্বাস

নগেন্দ্রনাথ দাসের দাবি, কোনও পুত্রসন্তান না থাকলেও গোপাল ভাঁড়ের একটি মেয়ে ছিল। তাঁর নাম ‘রাধারাণী’। গোপাল ভাঁড়ের বংশ লতিকাও তিনি এই বইয়ে রেখেছেন।


নগেন্দ্রনাথ দাসের বই থেকে গোপাল ভাঁড়ের বংশ-লতিকা। নিজস্ব চিত্র

নগেন্দ্রনাথের বক্তব্য, তিনি গোপালের দাদা কল্যাণের উত্তরসূরি। সেই অর্থে গোপালের একমাত্র বংশধর। তবে এই মত যে সব ঐতিহাসিক সন্দেহাতীত ভাবে মেনে নিচ্ছেন, তা বলা যায় না।

Print