খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে সরকার : মির্জা ফখরুল

May 18, 2018 at 2:55 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে বাদ দিতে সরকার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাসে নজিরবিহীন সব ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে এই সরকার। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত করা হয় এই ৫ বছরের সাজার-এটার ইতিহাসে নজির নেই। তারা করেছেন। নজির নেই যে, মাত্র ৩/৪ মাসের মধ্যে এই আপীলটাকে চূড়ান্ত নিম্পত্তি করার নির্দেশ দেয়া- এটারও নজির নেই। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই মামলাটিকে একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কাজ করছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে যে, এই নির্দেশ-আদেশগুলো আসছে উচ্চ আদালত থেকে বিচার বিভাগ থেকে। যেটা সর্বশেষ স্থান যেখানে অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের যাওয়ার একমাত্র জায়গা ছিলো বিচার বিভাগ। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে সেই বিচার বিভাগকেও সরকার তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আইনি লড়াই করে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসছিলাম। তারপরও তিনি মুক্তি পাননি। কারণটা হচ্ছে, এই অবৈধ অনৈতিক এই সরকার তাদের সবচেয়ে ভালো প্রতিপক্ষ দেশনেত্রীকে। তারা মনে করে যে, দেশনেত্রী যদি বাইরে থাকেন তাহলে জনগণের যে বাঁধভাঙা ঢল, সেই ঢলকে তারা প্রতিরোধ করতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে দেশনেত্রী যদি অংশ নেন তাহলে সেই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি কেউ ঠেকাতে পারবে না। এজন্য তারা সুপরিল্পিতভাবে চক্রান্ত করে, মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে নির্বাচনের আগেই এই মামলার কার্যক্রম শেষ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পুলিশের নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে সেখানে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের দিনে জনগনকে ভোট কেন্দ্রে যেতে না দিয়ে তারা ভোট ডাকাতি করেছে। পত্র-পত্রিকায় সব কিছু এসেছে ইলেক্ট্রিক চ্যানেলে এসেছে। এমনকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত তিনি পর্যন্ত বলেছেন যে, খুলনার নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিৎ। এই নির্বাচন তদন্ত করবেন না। এই কমিশন পুরোপুরিভাবে সরকারের বশংবদ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সারা পৃথিবী জানে বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রের কোনো স্পেস নেই।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মহানগর দক্ষিণকে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেবার আহবানও জানান ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্তি করতে হলে আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে হবে। এই জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে যে পাথর আমাদের বুকের ওপর বসে আছে, সেই পাথরকে সরাতে হবে, এই দানবকে সরাতে হবে। আমি অনুরোধ জানাব, মহানগর দক্ষিণ আপনার সংগঠিত হোন যখনই প্রয়োজন হবে আপনারা যেন রাস্তায় নামতে পারেন।

একই সঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির তো কোনো নির্বাচন দেশে হতে দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

নয়া পল্টনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে নিয়ে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের লেখা ‘কোটি জনতার মা’ এর গানের সিডি’র মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। মহাসচিব মোড়ক উন্মোচনের পর গানটি শুনানো হয় দর্শক শ্রোতাদের জন্য। মহানগর দক্ষিনের সাধারন সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আখতারুজ্জামান বাচ্চুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কন্ঠশিল্পী নাসির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মীর হোসেন মীরু, জাসাসের সহসভাপতি আহসানউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print