২৫ সেকেন্ড আগে ট্রেন ছাড়ায় তুলকালাম কাণ্ড

May 17, 2018 at 4:40 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নির্ধারিত সময়ের ২৫ সেকেন্ড আগে ট্রেন ছাড়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছে জাপানের একটি রেল সংস্থা। ছয় মাস আগেও দেশটিতে এ ধরণের একটি ঘটনা ঘটেছে। তখন ট্রেনটি ২০ সেকেন্ড আগে ছেড়ে গিয়েছিল। বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জাপানের রেল পরিচালনা সংস্থা বলেছে, ”আমাদের যাত্রীদের এর ফলে যে বড় রকমের অসুবিধা হয়েছে তা একেবারেই ক্ষমার অযোগ্য।”

জাপানে ট্রেন এতই ঘড়ির কাঁটা ধরে ছাড়ে অর্থাৎ সময়ানুবর্তিতার মাপকাঠি সেখানে এতই উঁচু যে এই ঘটনাকে সেখানে দেখা হচ্ছে ”মান পড়ে যাওয়া” হিসাবে।

তারা বলছে, মাত্র ছয় মাস আগেই নভেম্বরের শেষে তাদের একটা ট্রেন ছেড়েছিল নির্ধারিত সময়ের ২০ সেকেণ্ড আগে- আর এবারে সেটা গিয়ে দাঁড়াল পুরো ২৫ সেকেণ্ডে!

ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে রীতিমত সোরগোল।

জাপান টুডে সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রেনের কন্ডাক্টর ভেবেছিলেন ট্রেনটির নতোগাওয়া স্টেশন ছাড়ার কথা সকাল ৭টা ১১ মিনিটে। এর আগে ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছিল সকাল ৭টা ১২ মিনিট।

ট্রেনটির দরজা এক মিনিট আগে বন্ধ করে দেয়ার আগে তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন। তখনও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য হাতে কয়েক সেকেন্ড সময় ছিল।

কিন্তু যখন তিনি দেখলেন প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমান কোনো যাত্রী নেই, তখন তিনি কয়েক সেকেন্ড আগেই ট্রেন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জাপানে ট্রেন খুবই ঘড়ির কাঁটা ধরে চলে বলে সুনাম রয়েছে। এবং এ ট্রেনটির ক্ষেত্রে পরে জানা যায় যে আসলেই ট্রেনটিতে ওঠার জন্য যাত্রী তখনও বাকি ছিল।

প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকা যাত্রীরা রেল সংস্থার কাছে অভিযোগ করেন এবং এর অল্পক্ষণের মধ্যেই সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া হয়।

গত বছর নভেম্বর মাসে সুকুবা এক্সপ্রেস লাইনের একটি ট্রেন যেটি টোকিও ও সুকুবা শহরের মধ্যে যাতায়াত করে, সেই সংস্থার কর্তৃপক্ষদের যাত্রীদের কাছে ট্রেন বিশ সেকেণ্ড আগে ছেড়ে ”অসুবিধা সৃষ্টির জন্য গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ” করতে হয়েছিল।

সেবারেও ট্রেন নির্ধারিত সময়ের আগে ছাড়ার ঘটনা ঘটেছিল সময় নিয়ে কন্ডাক্টরের ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তবে সেবার কোনো যাত্রী প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকার ঘটনা ঘটেনি।

কখন বলা যাবে ট্রেন ঠিক টাইমে আছে?

বিশ্বের অনেক দেশই তাদের পরিষেবায় কত শতাংশ ‘ট্রেন সঠিক সময়ে’ চলছে তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।

সাধারণত মনে করা হয় যে, ট্রেন লেট না হলে বলা যাবে ‘ট্রেন সময়ে আছে’। কিন্তু বিষয়টা অত সহজ নয়।

তাহলে ‘ট্রেন সঠিক সময়ে’ – এর অর্থ কোন দেশে কী?

ইউরোপের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ট্রেন চলে সবচেয়ে বেশি ঘড়ির কাঁটা ধরে। তবে সুইসদের হিসাবে একটা ট্রেন যদি ঘোষিত সময়ের তিন মিনিট পর স্টেশনে ঢোকে তাহলে বলা যাবে সেই ট্রেন লেট করেছে।

অন্যদিকে ব্রিটেনে একটা ট্রেন পাঁচ মিনিট দেরি করলেও বলা হবে না ট্রেনটা লেট আছে- বরং ধরা হবে ট্রেনটা সময়েই আছে।

আমেরিকায় ২৫০ মাইল যাত্রাপথের ট্রেনের ১০ মিনিট দেরি করা গ্রহণযোগ্য। এবং যাত্রাপথ ৫৫০ মাইল হলে সেখানে ট্রেনটি ৩০ মিনিট পর্যন্ত দেরি করলেও ধরা হবে ট্রেনটি সময়ে আছে।

তবে আয়ারল্যান্ডে একটা ট্রেন ১০ মিনিট দেরি করলেও বলা যাবে ট্রেনটি সময়ে আছে।

অস্ট্রেলিয়ায় আবার বিভিন্ন এলাকায় এই সময়ের রকমফের আছে। কোথাও ১১ মিনিট পর্যন্ত হাতে রাখা যায়, কোথাও আবার চার থেকে ছয় মিনিট বেশি দেরি হলে ট্রেন লেট বলে ধরা হয়।

তাইওয়ানে এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ৯৯.৬৬% ট্রেন একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে চলেছে।

তবে জাপানে ট্রেন চলাচলে সময়ানুবর্তিতা বিশ্বের সব দেশের ওপরে। সেখানে এক সেকেন্ড আগে পরেও সময়ানুবর্তিতা ভঙ্গ বলে ধরা হয়।

 

ছেলেকে ২০ বছর কাঠের খাঁচায় বন্দি রাখলেন বাবা

ছেলেকে ২০ বছর খাঁচায় আটকে রাখার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জাপানের পুলিশ
কাঠের খাঁচায় নিজের ছেলেকে আটকে রাখার অভিযোগে ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জাপানের পুলিশ।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের কর্মকর্তাদের কাছে ইয়োশিতানে ইয়ামাসাকি বলেছেন, তার ছেলেকে তিনি আটকে রাখেন কারণ মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ার কারণে তার ছেলে মাঝেমধ্যে হিংস্র আচরণ করতো। এখন তার ছেলের বয়স ৪২।

ইয়ামাসাকি যে খাঁচায় তার ছেলেকে আটকে রাখেন সেটি উচ্চতায় এক মিটার ও চওড়ায় দুই মিটারের কম। খাঁচাটি সান্ডা শহরে ইয়ামাসাকির বাসার পাশে রাখা থাকতো।

তার ছেলে বর্তমানে শহরের কর্তৃপক্ষের কাছে আছে। দীর্ঘদিন খাঁচায় বন্দী থাকার কারণে তিনি পিঠের সমস্যায় ভুগছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে পশ্চিম জাপানের সমাজ কল্যাণ বিভাগের তদারকিতে রয়েছেন তিনি।

সান্ডা শহর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা ইয়ামাসাকির বাসায় দেখা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ ৪২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বন্দি থাকার ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে।

তদন্তকারীরা মনে করছে ইয়ামাসাকি তার মানসিকভাবে অসুস্থ ছেলেকে ১৬ বছর বয়স থেকেই বন্দী করে রাখা শুরু করে। ওই সময় থেকে তার মধ্যে মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ হওয়া শুরু করে।

আপাতত ছেলেকে ১৮ জানুয়ারি ৩৬ ঘণ্টা আটকে রাখার দায়ে অবসর ভাতায় জীবনযাপন করা ইয়ামাসাকিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামাসাকি তার নামে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে বলেছেন যে তার ছেলেকে তিনি প্রতিদিন খাবার দিয়েছেন ও গোসল করার সুযোগও দিয়েছেন।

Print