জিপিএ-৫ পেয়েও অন্তরের অর্থাভাবে লেখাপড়া অনিশ্চিত

May 16, 2018 at 11:36 am

আমানুল হক আমান, বাঘা
অন্তর কুমার শীল। জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে প্রতিটি মূহুর্ত লড়াই করে চলেছে। তবুও লেখাপড়ার হাল ছাড়েনি। পিছু হটেনি লড়াই থেকে। বড় হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছে। নিজের চেষ্টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ মে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ফলাফলে খুশি হয়েছে পরিবারসহ স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিবেশিরা। তবে অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিনত হচ্ছে তার। সামনের পুরোটা পথ তার অনিশ্চিত। দারিদ্রতার কারনে আগামী দিনের উচ্চ শিক্ষার খরচের চিন্তায় বাবা-মা ও তার চোখ মুখে হতাশার ছাপ।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মাষ্টার পাড়া মহল্লার ফুটপাতে চুল-দাঁড়ি কামোনো গৌউর চন্দ্র শীলের ছেলে অন্তর কুমার শীল। অন্তরের বাবার অল্প আয়ে চলে সংসার। মা অর্পনা রানী শীল গৃহিনী। এক বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে অন্তর ছোট। অভাবের কারণে বড় বোন এর পড়া-লেখা প্রায় বন্ধের উপক্রম। সে আলহাজ্ব মহিলা ডিগ্রী কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী। অর্থের অভাবে কলেজ করতে না পেরে বাড়িতে বসে আছে। তবে জমি বলতে বাড়ির ভিটাটুটু।

অন্তরের মা অর্পনা রানী শীল জানান, ছেলে ভালো ফলাফল করেছে। সে আরও পড়তে চায়। তাই তারা এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খরচ নিয়ে। স্বল্প আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার। শুধু এইটুকু বলতে পারি ছেলের লেখা-পড়া করাতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এছাড়া অন্তরের বাবা অসুস্থ। কাজও ঠিকভাবে করতে পারেনা। প্রতিদিন ৮০ টাকার ওষুধ লাগে। দিনে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় আয় হয়। এই আয় দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া বড় মেয়ে আলহাজ্ব মহিলা ডিগ্রী কলেজে শেষ বর্ষে পড়ছে। টাকা দিতে না পারার কারনে মেয়ে ঠিকমতো কলেজে যেতে পারছেনা। তারপর ছেলে অন্তরকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১১৫২ মার্ক নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে অন্তর। এসএসসি পরীক্ষার মতো স্কুল জীবনের সব পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা অন্তর ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে গরিব অসহায়দের সেবা করতে চায়। কারও কাছে একটু আর্থিক সহযোগিতা পেলে হাসি ফুটাবে অন্তরের মুখে।

অন্তর কুমার শীল বলেন, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়া-লেখা করেছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনও কখনও বাবার কাজে সহযোগিতা করেছি। এই আয় থেকে নিজের পড়া-লেখা খরচের পাশাপাশি সংসার চলেছে।

আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, অর্থের অভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা অন্তরের বড়ই কষ্টের। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীর চেয়ে আলাদা মেধা সম্পূর্ণ ছিল অন্তর। তবে তার জন্য সমাজের শিক্ষানুরাগী কোন সুহৃদ ব্যাক্তির একটু সহযোগিতা পেলে তার উচ্চ শিক্ষার পথ নিশ্চিত হতে পারে।

 

স/আ

Print