রাজশাহীতে ইয়াবাসহ বড় ভাই আটক, আসামি ছোট ভাই

May 14, 2018 at 11:32 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:  রাজশাহীর মোহনপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ বড় ভাইকে আটক করে কয়েক ঘণ্টা থানাহাজতে রাখার পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর বড় ভাইয়ের প্রতিপক্ষ ছোট ভাইকে আসামি করে মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুই ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতার জের ধরেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে মোহনপুর থানার এসআই আবদুস সালাম উপজেলার মায়ারমোড়ের হাফিজা হার্ডওয়ার নামে একটি দোকানে অভিযান চালায়। এরপর ক্যাশ বাক্সের ড্রয়ার থেকে আট পিস ইয়াবাসহ দোকান মালিক সাজ্জাদুল হককে (৫৬) আটক করে। এ সময় জব্দ তালিকায় উপস্থিত স্থানীয় দুই ব্যক্তির কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন এসআই সালাম।

এ ঘটনার পর সাজ্জাদুলকে কয়েক ঘণ্টা থানাহাজতে আটকে রাখা হয়। তারপর গভীর রাতে জোর তদবিরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ তালিকায় যে দুজনের স্বাক্ষর নেয়া হয়, তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

পরে কৌশলে সাজ্জাদুলের জামাই জয়নাল আবেদিন এবং আরেক সহোদর মোহাম্মদ আলীকে সাক্ষী করে প্রতিপক্ষ ছোট ভাই সাইদুল হকের প্লাস্টিকের দোকানের ড্রয়ার থেকে আট পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এমন অভিযোগে এসআই সালাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মৃত আরজেদ আলীর ছেলে সাজ্জাদুল হকের সঙ্গে তার ভাই সাইদুল হকের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ওই এলাকায় বহুল আলোচিত আলী বাহিনীকে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে সাইদুল হককে বেদম পিটিয়ে জখম ও ল্যাংড়া করে দেয় বড় ভাই সাজ্জাদুল হক। তখন থেকেই তীব্র হয়ে উঠে দুই ভাইয়ের শত্রুতা। এ ঘটনায় থানায় মামলাও দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাইদুল হক।

অভিযোগের ব্যাপারে এসআই সালামের সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে যুগান্তরের পরিচয়ে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হয়। তারপরেও তিনি রেসপন্স করেননি। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মোহনপুর থানার ওসি এসএম আবুল কাশেম আজাদ বলেন, সাইদুল হক তার বড় ভাই সাজ্জাদুল হককে ফাঁসানোর জন্য হার্ডওয়ার দোকানের ক্যাশ বাক্সের ড্রয়ারে ইয়াবা রেখে পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিক তদন্তে তা জানতে পারায় সাজ্জাদুল হককে থানা থেকে ছেড়ে দিয়ে সাইদুল হককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যুগান্তর

Print