রাণীনগরে আ’লীগ নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলা: মূলহোতা মামলা থেকে বাদ

April 20, 2018 at 5:00 pm

রাণীনগর প্রতিনিধি:

নওগাঁর রাণীনগরে ইউনিয়ন আ’লীগের এক নেতাকে হত্যার চেষ্টায় ছুরিকাঘাত করে গুরুত্বর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সংঘবদ্ধ ৭-৮ জনের মধ্যে ৫ জন পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রামবাসী আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ স্থানীয় জনগনের কবল থেকে গণপিটুনিতে গুরুত্বর আহত অবস্থায় একই দলের ৩ জনকে উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। বুধবার রাতে উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ধনপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

পরে মারপিটের মূলহোতা দাদন ব্যবসায়ী ও এলাকার টপটেরর শহিদুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই জনকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলা দায়েরের পর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে আ’লীগ নেতাকে হত্যার চেষ্টার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার ওই এলাকার লোকজন থানার সামনে দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান করে। রাণীনগর থানার ওসি এই ঘটনার সাথে প্রকৃত জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিলে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় আ’লীগ নেতা জিয়ার বাবা ইব্রাহীম সাহা বাদি হয়ে রাণীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা থেকে বাদ পড়লো মূলহোতা।

জানা গেছে, উপজেলার মিরাট ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ধনপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব ইব্রাহীম সাহার ছেলে মো: জিয়াউর রহমান জিয়া (৩৮) প্রতিদিনের মত পার্শ্ববর্তী বান্দাইখাড়া বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত অনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে পৌঁছা মাত্রই পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা কতিপয় চিহিৃত ৭/৮ জন আ’লীগের সন্ত্রাসীরা জিয়াকে লক্ষ্য করে প্রথমে চোখে-মুখে বালু ছিটিয়ে দিয়ে ছুরিকাঘাত করে পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এ্যালোপাতারি কোপাতে থাকলে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে। এই সময় গ্রামবাসীরা এক যোগে সন্ত্রাসীদের ঘিরে গণপিটুনি শুরু করে। গণপিটুনি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এই ঘটনার সাথে জরিত মূলহোতা এলাকার টপটেরর ও দাদন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম পুকুরে লাফ দিয়ে আতœরক্ষার চেষ্টা করলেও গণধোলাই থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই পায় না। গুরুতর আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমান নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এব্যাপারে জিয়ার বাবা ইব্রাহীম সাহা বাদি হয়ে রাণীনগর থানায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনার সাথে জড়িত মূলহোতা শহিদুল ইসলামের ভাগিনা আত্রাই উপজেলার বড়কালিকাপুর গ্রামের মৃত-আজিমুদ্দিনের ছেলে স্বপন হোসেন এবং একই গ্রামের নিরঞ্জন মহন্তের ছেলে প্রসেনজিৎ মহন্তসহ অজ্ঞাত নামা ৬-৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে দুই জনকে গ্রেফতার দেখালেও ঘটনার মূলহোতা শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়ায় চিকিৎসাধীন থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তার ব্যাপারে মুখ খুলছে না। এমনকি মামলাতে তার নাম না থাকায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আহত আ’লীগ নেতা জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই মো: জুবায়ের হোসেন জানান, আমার ভাই রাজনীতি করলেও ব্যক্তি জীবনে সে খুব সাদা-মাটা মানুষ। আমরা ব্যবসা করেই জীবিকা নির্বাহ করি। হঠাৎ করে শহিদুলের নেতৃত্বে আমার ভাইকে কেন হত্যার চেষ্টা করা হলো? আমি এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিন জনকে থানায় আনলেও শহিদুলকে কেন এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হলো না? শুরুতেই এই মামলা নিয়ে আমি আশংকা করছি। প্রকৃত দোষীরা কি বার বার এভাবে পার পেয়ে যাবে?

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, জিয়াকে হত্যার চেষ্টা এটা পরিকল্পিত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গণধোলাই এর শিকার তিন জনকে উদ্ধার করে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। এঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মামলার প্রেক্ষিতে দুই জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এঘটনার সাথে জড়িতদের খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।

স/অ

Print