একনজরে মুজিবনগর সরকার

April 17, 2018 at 11:02 am
সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন। একাত্তরের এই দিনে বাঙালি জাতি নতুন করে আবার জেগে ওঠে, মুছে দেয় পরাজয়ের গ্লানি।

এইদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় রচিত হয়েছিল আরেকটি ইতিহাস। একাত্তরের অগ্নিঝরা এ দিনেই বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিমূল রচিত হয়। বৈদ্যনাথতলার নামকরণ হয় মুজিবনগর। পরবর্তীতে দিবসটি মুজিবনগর দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে এদিন গঠিত হয় প্রবাসী বিপ্লবী সরকার। বিশ্ব মানচিত্রে স্থান প্রায় স্বাধীন বাংলাদেশের নাম।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র রচনা করেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম।

একনজরে মুজিবনগর সরকার-

রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমদ, অর্থমন্ত্রী : মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : এইচ এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি : এম এ জি ওসমানী, মুখ্য সচিব : রুহুল কুদ্দুস, সংস্থাপন সচিব : নূরুল কাদের খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব : এইচ টি ইমাম, তথ্যসচিব : আবদুস সামাদ, আনোয়ারুল হক খান (১৪ অক্টোবর থেকে ), অর্থসচিব : খোন্দকার আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র সচিব : মাহবুবুল আলম চাষী, স্বরাষ্ট্র সচিব : এম এ খালেক, কৃষি সচিব : নূরউদ্দিন আহমদ, প্রতিরক্ষা সচিব : আবদুস সামাদ, আইন সচিব : এ হান্নান চৌধুরী, শিক্ষা উপদেষ্টা : কামরুজ্জামান এম এন এ, তথ্য-বেতার-ফিল্ম-আর্ট ও ডিজাইন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত : আবদুল মান্নান এম এন এ, পরিকল্পনা কমিশন চেয়ারম্যান : ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী, সদস্যরা হচ্ছেন : ড. স্বদেশ বসু, ড. মুশাররফ হোসেন, ড. আনিসুজ্জামান ও ড. সারওয়ার মুরশিদ।

যেভাবে মুজিবনগর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামের সঙ্গে মিল রেখে এ স্থানের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধ পরিচালনাকারী সরকারের রাজধানীর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করেন। পরবর্তীকালে এখানে ‘স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ করা হয়।

স্মৃতিসৌধের বিশেষত্ব : মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ এর স্থপতি তানভীর করিম। স্মৃতিসৌধটি ২৩টি ত্রিভূজাকৃতি দেয়ালের সমন্বয়ে গঠিত। ২৩টি দেয়াল আগষ্ট-১৯৪৭ থেকে র্মাচ-১৯৭১ এই ২৩ বছরের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যা বৃত্তাকারভাবে সারিবদ্ধ সাজানো রয়েছে।

রাইজিংবিডি

Print