গোদাগাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী নির্মানে দুর্নীতির অভিযোগ

April 16, 2018 at 3:59 pm

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আল-মদিনা এন্টার প্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটার মোস্তাফিজুর রহমান পলান কে নিন্মমানের ইট,বালু, খোয়া, রড, সিমেন্ট ব্যবহার করে বাড়ী নির্মান তৈরীর বিষয়ে অবগত করলে কোন রকম কর্ণপাত ছাড়াই জোর করে কাজ চালিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে নিন্মমানের কাজের জোড়ালো প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান পলান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দীন ও তার ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দীনকে গলা ধাক্কা দিয়ে মারধর করে তার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এলজিইডির পক্ষে কোন ইঞ্জিনিয়ার সেখানে যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দকৃত উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দীনের বাড়ীটি ৮ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ শুরু থেকেই নির্মান কাজের ব্যবহৃত সরাঞ্জমাদি নিম্মমানের করে আসছে।

ঠিকাদার দ্বারা মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে গলাধাক্কা দিয়ে মারধর, বালু, ইট,খোয়া,সিমেন্ট, রড নিম্মমানের ব্যবহারের অভিযোগ এনে সোমবার গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দীন মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের অর্ন্তগত অসচ্ছ্বল মুক্তিযোদ্ধা বাড়ী বরাদ্দ পায়। বাড়ী নির্মানে এলজিইডি গোদাগাড়ী অফিস হতে পরিচালনা করে। গত ১০-১২ দিন আগে বাড়ী নির্মানে বালু, ইট, রড. সিমেন্টসহ সব কিছুই মানসম্মত ভাবে ব্যবহার করছে না। ১নং ইটের সাথে নিন্মমানের ইট ব্যবহার করা, ঢালাই কাজে মসলার মান ঠিকমত ব্যবহার না করা এবং পরিমানমত রডের ব্যবহার না করায় মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দীন বাধা দেয়। এতে করে ঠিকাদার তাকে গলাধাক্কা দিয়ে মারধর করে তার নিজের ইচ্ছেমত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এমনকি এলজিইডি গোদাগাড়ী অফিসের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ রিপন সেখানে যায় না।

উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ রিপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী নির্মানে কোন গাফলতি নেই মানসম্মত ভাবেই তৈরী হচ্ছে । তবে তিনি ঠিক মতো তদারকি করছেন না এমন অভিযোগের কথা বললে তিনি সেটি অস্বীকার করেন।

ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান পলানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী নির্মানে কোন ধরনের দূর্ণিতি হচ্ছে না। সব কিছু নিয়ম অনুযায়ী তৈরী হচ্ছে যা গোদাগাড়ী এলজিইডি তদারকি করছে বলে জানান। মুক্তিযোদ্ধাকে গলাধাক্কাদিয়ে মারধরের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সাথে এসব কিছুই ঘটেনি তবে কাজ নিয়ে বারবার বিরক্ত করায় তার সাথে সামান্য কথা কাটা কাটি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

উজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শিমুল আকতার বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী নির্মানে অনিয়মের বিষয়টি আমি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোস্তাক হোসেন কে দেখার জন্য বলেছি।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোস্তাক হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী নির্মানে অনিয়নের কোন সুযোগ নেই । আমরা তা সঠিক মনিটরিং করছি। মুক্তিযোধার সাথে কোন খারাপ ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিবো। তবে ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে ভালমানের কাজ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি বলে জানান।

স/শ

Print