রানি সত্যিই মহম্মদের বংশধর? ফাঁস হল সেই বংশতালিকা

April 15, 2018 at 12:41 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বিতর্ক ক্রমশই দানা বাঁধছে৷ ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ যে হজরত মহম্মদের বংশধর, তা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জমছে মেঘ৷ এবার প্রশ্ন উঠছে সত্যিই যে রানির সঙ্গে মহম্মদের সম্পর্ক ছিল, তার কি কোনও প্রমাণ রয়েছে?

সম্প্রতি একটি ফ্যামিলি চার্ট সামনে এসেছে৷ সেখানে তাঁদের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে৷ চার্ট অনুযায়ী রাজা চতুর্থ এডওয়ার্ডের বংশোধর রানি এলিজাবেথ৷ এই চতুর্থ এডওয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন মহম্মদ৷ ফ্যামিলি চার্ট সঠিক প্রমাণিত হলে ইসলামের একটি নতুন দিক খুলে যাবে৷ যদি এই নিশ্চিত হয়, কিছু ইসলামিক পণ্ডিত একটি অতিরিক্ত সম্মানিত টাইটেল যোগ করার প্রস্তাব দেন৷ দুটি সম্মান এক্ষেত্রে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ একটি আমির-আল-মুমিনিন (বিশ্বস্ত নেত্রী) ও সাইদা (কম্যান্ডার যিনি নবীর মেয়ে ফতিমা থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন)৷

ইসলামের সঙ্গে রানির যোগাযোগ শুরু হয়েছে রিচার্ডের থেকে৷ তিনি ছিলেন এরাল অফ কেমব্রিজ৷ তাঁর মা ছিলেন ইসাবেল অফ ক্যাসিল৷ ক্যাসিলের রাজা পেদ্রোর কন্যা৷ এর পরে তালিকায় আসেন ষষ্ঠ অ্যালফোনসো৷ তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১০৭২ সালে৷ তাঁর স্ত্রী ছিলেন জাইদা৷ তিনি মুসলিম রাজকন্যা ছিলেন৷ তাঁর বাবা ছিলেন সেভিলের রাজা দ্বিতীয় মোহামেত৷ দুইদন দুই ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাঁদের বিয়ের সময় সমস্যাও তৈরি হয়েছিল৷ তারপরের তালিকা খানিকটা এই রকম।

তবে বাকিংহাম প্যালেসের তরফে এই ঘটনার নিয়ে এখনও মুখ খোলা হয়নি৷ তবে রানি ও জাইদার মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে৷

কিছুদিন আগেই একটি খবর প্রকাশ পেয়েছিল৷ বলা হয়েছিল, ঐতিহ্যশালী ব্রিটেনের রাজ পরিবারের সঙ্গে যোগ রয়েছে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তকের৷ কারণ রানি এলিজাবেথ হচ্ছেন স্বয়ং হজরত মহম্মদের বংশধর৷ মরক্কোর একটি সংবাদপত্রে এই গবেষণার কথা উঠে আসে৷

এর আগে ১৯৮৬ সালে এই তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ডেইলি মেল পত্রিকায়৷ সেই সময় ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বংশতালিকার উল্লেখ করা হয়েছিল৷ সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে রানি এলিজাবেথের সরাসরি রক্তের সম্পর্ক রয়েছে মধ্যযুগের স্পেনের মুসলিম সম্প্রদায়ের৷ যারা আসলে কেমব্রিজের বাসিন্দা ছিলেন৷ সেখানে ফতিমা নামের এক মহিলার গর্ভজাত সন্তানের থেকেই সূত্রপাত হয় রানি এলিজাবেথের বংশের৷ সেই ফতিমা হচ্ছেন হজরত মহম্মদের নিজের মেয়ে৷ অনেক ইতিহাসবিদ এই তত্ত্ব খারিজ করে দিলেও স্পেনের মধ্যযুগীয় রেকর্ড অবশ্য মান্যতা দিয়েছে৷ শুধু তাই নয়, একসময় ইজিপ্টের গ্র্যান্ড মুফতি আলি গোম্মাও সম্মত হয়েছিলেন মরক্কোর সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের তথ্যে৷

১৯৮৬ সালে এই তথ্য উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে। সেই চিঠি লিখেছিল বুর্ক পাবলিশিং নামক একটি সংস্থা। যারা রাজ পরিবারের বংশতালিকা দেখাশোনা করত। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ব্রিটেনবাসীর এটা জানা দরকার যে দেশের রানির শরীরে বইছে স্বয়ং হজরত মহম্মদের রক্ত। সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় খুব খুশি হয়েছিলেন ওই দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

যদিও পূর্ববর্তী তথ্য একটু অন্যরকম। সেখানে বলা হয়েছিল যে রাজকন্যা জায়দার বংশধর হচ্ছেন রানি এলিজাবেথ। জায়দা আবার সেভিল-এর এক মুসলিম রাজার চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে এই জায়দা হলেন সরাসরি হজরত মহম্মদের মেয়ে। একাদশ শতকে তিনি কেমব্রিজে আসেন এবং খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।

Print