বগুড়ায় পাসপোর্ট কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টা, যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

March 30, 2018 at 9:27 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাহজাহান কবির হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর মোস্তাকিম রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর এলাকার সাতকুড়ি বাজার থেকে আজ শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টায় তাঁকে এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তিনি ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

মোস্তাকিম একই সঙ্গে বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে একই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় এক সংবাদ সম্মেলনে সহযোগীসহ মুস্তাকিমের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা।

আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, মুস্তাকিমকে ভারতে পালানোয় সহায়তা করায় মিলু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ওই অভিযান চালায়। এতে সহযোগিতা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং ও দিনাজপুর জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর শহরের খান্দার এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সুজানুর রহমানকে। যুবলীগ নেতা মোস্তাকিম ওই মামলারও প্রধান আসামি।

বৃহস্পতিবার রাতে আরেকটি অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি হাসান আলী (২৬), রাসেল মিয়া (৩০) ও জীবনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। হাসান শহরের মালগ্রাম, রাসেল ঠনঠনিয়া মধ্যপাড়া এবং জীবন একই এলাকার হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এই তিনজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটায় দাপ্তরিক কাজ শেষে বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে ধাওয়া করে রামদা দিয়ে উপর্যুপরি কোপানো হয় সাহজাহান কবিরকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে সাহজাহান কবিরকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাসপোর্ট কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শাজেনুর আলম ও রইসুল ইসলাম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। এতে শহর যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাকিম রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়। মোস্তাকিম ছাড়াও মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন শহর যুবলীগের অর্থ সম্পাদক জাকারিয়া আদিল, মালগ্রাম এলাকার হাসান আলী, শান্ত ও শহিদুল, ঠনঠনিয়া এলাকার জীবন ও রাসেল মিয়া, শাহপাড়ার জনি, রোমান, কাফি ও সীমান্ত। এজাহারে এঁদেরকে মোস্তাকিমের সহযোগী উল্লেখ করা হয়। পুলিশ বলছে, সাহজাহান কবিরের কার্যক্রমে স্থানীয় একটি পাসপোর্ট দালাল চক্র ক্ষুব্ধ ছিল। এই দালাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতেন মোস্তাকিম। প্রথম আলো

Print