কোটা সংস্কার : শাহবাগে ফের আন্দোলনকারীদের অবস্থান

March 14, 2018 at 8:37 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ৫০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করে রমনা থানায় রাখা হয়েছে। তাঁদের না ছাড়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন না তাঁরা। জাতীয় জাদুঘরের সামনে পাঁচ শতাধিক আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন।

এদিকে পুলিশের দাবি, রাস্তা ছেড়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল থানায় গেলেই আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেব্নে তাঁরা।

এর আগে দুপুরে আন্দোলনকারীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনের অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অন্তত ৫০ জনকে আটক করে রমনা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাঁরা রমনা থানার সামনে আসার চেষ্টা করে। পুলিশ ব্যারিকেডের মধ্যেই পরিবাগ, শেরাটনের মোড় হয়ে শাহবাগে চলে আসে তারা।

হাইকোর্টের মোড়ে পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা করে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। এ সময় সাতজন আহত হন বলেও জানান তাঁরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আজিমুল হক জানিয়েছেন, রাস্তা ছেড়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল থানায় গেলেই আটকদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানিয়েছেন, আটককৃতরা রমনা থানায় আছে। আন্দোলনকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁরা রাস্তা ছেড়ে দিলেই আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে সকালে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে বেলা পৌনে ১১টায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালনে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে রওনা হন তাঁরা।

এর আগে পাঁচ দফা দাবিতে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে তাঁদের দাবি আদায় না হলে ১৪ মার্চ সকালে সারা দেশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ও ঢাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে এই কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

তাদের পাঁচ দফা দাবি হলো- কোটা ব্যাবস্থা সংস্কার করে ৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য থাকা পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেওয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নয়, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিক বার ব্যবহার না করা।

আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

Print