চলে গেলেন স্টিফেন হকিং, জেনে নিন তাঁর সম্পর্কে ৭টি বিস্ময়কর তথ্য

March 14, 2018 at 8:27 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

১৯৬৩ সালে, মাত্র ২১ বছর বয়সে স্নায়ুর জটিল অসুখে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তাঁর আয়ু আর মাত্র দু’বছর। কিন্তু, চিকিৎসাশাস্ত্রকে ভুল প্রমাণ করেন ‘ব্ল্যাক হোল থিওরির’ জনক, স্টিফেন হকিং।

অবশেষে আজ, বুধবার, প্রয়াণ হল বিশ্ববন্দিত এই পদার্থবিজ্ঞানীর। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। স্টিফেন হকিংয়ের পরিবারের পক্ষ থেকেই তাঁর মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।

তিনি বলতেন, ‘‘Life would be tragic if it weren’t funny’’। অর্থাৎ, জীবনে মজা না থাকলে তা দুঃখে পরিণত হয়। তাঁর জীবন নিয়ে অনেকেই অনেক তথ্য হয়তো জানবেন, এখানে দেওয়া থাকল ৭টি বিরল তথ্য—

১। জ্যোতির্বিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির ৩০০ তম মৃত্যু দিবসে জন্ম হয় স্টিফেন হকিং-এর। তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি। আর গ্যালিলিও মারা গিয়েছিলেন ১৬৪২ সালের ৮ জানুয়ারি।

২। বিশ্বখ্যাত আরও এক পদার্থবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন জন্মেছিলেন ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ। আজও ১৪ মার্চ, চির বিদায় নিলেন এ যুগের নামী পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।

৩। ছোটবেলায় পড়াশোনায় তিনি ছিলেন একেবারেই সাধারণ স্টিফেন হকিং। তবে, নানা বিষয়ের বই পড়তে ভালবাসতেন তিনি। যার ফলে, সমবয়সীদের তুলনায় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল। বন্ধুরা তাই তাঁকে ‘আইনস্টাইন’ বলেই ডাকত।

৪। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ে, স্টিফেন হকিং সেখানকার রোয়িং টিমে যোগ দেন। তাঁর নাকি শুধু পড়াশোনা করতে ‘বোর’ লাগত। এমনই তথ্য জানা গিয়েছে একটি সায়েন্স ওয়েবসাইট ‘HowStuffWorks’-এ।

৫। স্টিফেন হকিং-কে বলা হয় ‘ব্ল্যাক হোল থিওরি’র জনক। ১৯৯৭ সালে মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী জন প্রেসকিল তাঁর সঙ্গে ‘বেট’ লড়েছিলেন যে, ব্ল্যাক হোল থেকে কিছুই বেরিয়ে আসতে পারে না। কিন্তু, ২০০৪ সালে, তিনি নিজের ভুল শিকার করে নেন।

৬। ক্রিস্ট ধর্মের সর্বোচ্চ যাজক, পোপ দ্বিতীয় জন পলকে কটাক্ষ করেছিলেন সরাসরি। ‘মেন্টাল ফ্লস’ নামে এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাটিকান সিটিতে অনুষ্টিত এক ‘কসমোলজি কনফারেন্স’-এ, পোপ তাঁকে বিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে কোনও বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব না দিয়ে, বলেছিলেন তা ‘ভগবানের সৃষ্টি’ বলতে। স্বাভাবিক ভাবেই তা মেনে নেননি হকিং।

৭। শারীরিক অক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, ২০০৭ সালে, ৬৫ বছর বয়সে মহাকাশে গিয়েছিলেন স্টিফেন হকিং। মাধ্যাকর্ষণ শূন্য হয়ে গেলে ঠিক কেমন অনুভূতি হয়, সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি। মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানোর সময়, নিজের সর্বক্ষণের সঙ্গী, হুইলচেয়ারটি ত্যাগ করেছিলেন হকিং। এবং ডিগবাজিও খেয়েছিলেন।

Print