রাজশাহীর শিশু রাব্বি হত্যা মামলার আপীল দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি

March 14, 2018 at 5:36 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী ডাইংপাড়ার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শিশু রাব্বি অপহরণ ও হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের আপীল দ্রুত নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছেন শিশুর পিতা আলী হোসেন ও মামা দারেস আলী।

বুধবার বিকেলে রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। আসামিরা ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আপিল নং ১৭১/১৭ ও ফৌজদারী আপিল নং ১৪০/১৮ দায়ের করে রায়কে বিলম্বিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়। এ সময় তারা আপীল দ্রুত নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ নভেম্বর গ্রেপ্তারকৃত ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে দুই দিনব্যাপী যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক শিরীন কবিতা আখতার আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন এবং ১৯ ডিসেম্বর এই মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। এই মামলায় বাদি পক্ষের ১৮ জন এবং আসামি পক্ষের ২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিন জন আসামির ফাঁসির আদেশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আবুল কাশেমের ছেলে মাজেদুর রহমান সাগর (১৯), হযরত আলীর ছেলে নাজমুল হক (২০) ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রিপন সরকার লিটন (২০)।

আসামিরা ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে বেড়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ফজলে হোসেন রাব্বিকে (১০) অপহরণ করে। ওদিনই দেহ থেকে মাথা ও ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে লাশ জনৈক হাবিবুর রহমানের ধানক্ষেতের ডিপটিউবওয়েলের নালায় পুঁতে রাখে হত্যাকারীরা। এরপর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রাব্বির পিতা মামলার বাদি আলী হোসেনের মোবাইল করে। ২৪ ডিসেম্বর টাকা নিয়ে রাব্বিকে ছাড়ার কথা থাকলেও আসামিদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। আলী হোসেন প্রথম ২০ ডিসেম্বর মোহনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং ২৪ ডিসেম্বর এজাহার করেন। এর দুইদিন পর ২৬ ডিসেম্বর শিশু রাব্বির লাশ উদ্ধার হয়। পুলিশ মোবাইল কলের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। পরে আসামি সাগর ও আসিনুর বেগম দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে ঘটনার বিষয় সামনে আসে।

স/অ

Print