বিশ্বকাপে এ কোন ‘জ্যোতিষী’!

March 14, 2018 at 4:42 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সেন্ট পিটার্সবার্গে শীত প্রাসাদের মধ্যেই হেরমিতেজ জাদুঘর। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ জাদুঘরের বেজমেন্টে বংশপরম্পরা ধরেই তাদের বসবাস। শীত প্রাসাদে ইঁদুরের উৎপাত বন্ধে তাদের শরণাপন্ন হয়েছিলেন রাশিয়ার জার শাসকেরা। ‘একিলিস’-এর জন্ম শীত প্রাসাদেরই হেরমিতেজ জাদুঘরে। এত দিন ইঁদুরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে তাকে সামলাতে হয়েছে জাদুঘরের দামি চিত্রকর্ম পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব। ‘একিলিস’-এর কাঁধে এবার বর্তেছে নতুন দায়িত্ব—২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিশিয়াল ‘জ্যোতিষী’!

রাশিয়ায় গত বছর অনুষ্ঠিত ফিফা কনফেডারেশনস কাপে একিলিসের পারফরম্যান্স ছিল স্রেফ অবিশ্বাস্য। চার ম্যাচের তিনটিতেই আগেভাগে ঠিক ঠিক ফল বলে দিয়েছিল। আয়োজকেরা তাই বিশ্বকাপ ফুটবলেও একিলিসের ওপর আস্থা রেখেছেন। হেরমিতেজ জাদুঘরের প্রেস সচিব মারিয়া হালতুনেন জানান, একিলিসকে বেছে নেওয়ার কারণ ‘তার পছন্দ এবং বিশ্লেষণের ক্ষমতা। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং কাগজপত্রও সই করা শেষ।’

একিলিসকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করবেন আয়োজকেরা। সেই অনুষ্ঠানে তার গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে ফ্যান আইডি বা ফ্যান পাসপোর্ট। এই পরিচয়পত্র নিয়ে আর দশজন ভক্তের মতোই স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবে একিলিস। ওহ, গল্পে-গল্পে জানাতে দেরি হয়ে গেল একিলিস কোনো মানুষ নয়, ৪.৭ কেজি ওজনের একটি বিড়াল!

একিলিস জন্মগতভাবেই বধির। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বধির হওয়ায় একদিক থেকে সুবিধাই হবে। মাঠের বাদ্যি-বাজনায় তার নিদান দেওয়ার মনঃসংযোগে কোনো অসুবিধা হবে না। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী করার পদ্ধতি কিন্তু বেশ সাদামাটা। যে দুই দলের ম্যাচ, তাদের জাতীয় পতাকাসংবলিত দুটি পাত্রে খাবার দেওয়া হবে। এর মধ্যে একিলিস যে পাত্রটি বেছে নেবে, সেই দলই ম্যাচে জয়ী—এই হলো তার ভবিষ্যদ্বাণীর ধরন।

১৭৫৪ সালে শীত প্রাসাদে বানানো হেরমিতেজ জাদুঘরে সর্বপ্রথম বিড়াল এনেছিলেন জার শাসক পিটার দ্য গ্রেট। অনেকে আবার সম্রাজ্ঞী প্রথম এলিজাবেথের নামও বলেন। ইঁদুরের উৎপাত থেকে দামি দামি চিত্রকর্ম রক্ষা করতে হেরমিতেজ জাদুঘরে এখন ৫০টি বিড়াল রয়েছে। একিলিস তাদের মধ্যে তুলনামূলক নম্র এবং মানুষবান্ধব। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে আগেই ম্যাচের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে সাড়া ফেলেছিল অক্টোপাস ‘পল’।

সুত্র প্রথম আলো

Print