চাহিদা বেড়েছে ফোর-জি সাপোর্টেড স্মার্টফোনের

February 23, 2018 at 9:52 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দেশে চালু হয়েছে ফোরজি। কিছু কিছু এলাকায় সেবা দিতে শুরু করেছে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো। আর এই সেবা পেতে বাজারে ফোরজি সাপোর্টেড স্মার্টফোনের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা মার্কেটে, অনলাইনে ফোরজি সাপোর্টেড ফোনের খোঁজ করতে শুরু করেছেন। স্মার্টফোন আমদানিকারকরা বলছেন, ক্রেতাদের মাঝে সাড়া পড়েছে। এখন চলছে বাছ-বিচার ও দেখার পালা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে ১০ হাজার টাকায় যেসব স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, তার সবই ফোরজি সাপোর্টেড মোবাইলফোন সেট। আমদানিকারকরা ফোরজি চালুর আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। ফলে বাজারে ফোরজি সাপোর্টেড ফোনসেটের কোনও সংকট নেই। তবে মোবাইলফোন ব্যবহারকারীদের হাতে ফোরজি সেটের সংখ্যা কম। এ কারণে অনেকে চাইলেও ফোরজি ব্যবহার করতে পারছেন না। এখনই ফোরজি ব্যবহার করতে পারবেন মাত্র ১০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী (দেশে বর্তমানে ৩ কোটির কিছু বেশি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন)। অন্যদিকে মোবাইলফোন অপারেটররা কমদামে কো-ব্র্যান্ডেড (অপারেটরের দেওয়া অফারে নিতে হবে মোবাইলফোন সেট) বাজারে ছেড়েছে। এসব সেটের প্রতিও ব্যবহারকারীদের আগ্রহ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অপারেটর সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ মোবাইলফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)-এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, ‘সবে ফোরজি চালু হয়েছে। প্রভাব বুঝতে হলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে এরই মধ্যে বাজারে ফোরজি স্মার্টফোন ডিমান্ড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরের ‍দ্বিতীয় কোয়ার্টারে (এপ্রিল-জুন) পুরোপুরিভাবে ফোরজি স্মার্টফোনের চিত্রটা বোঝা যাবে।’

রুহুল আলম আল মাহবুব স্যামসাং মোবাইলের অন্যতম একজন আমদানিকারক। তিনি বলেন, ‘স্যামসাংয়ের ব্যবহারকারীরা ফোরজির ভালো এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। নেটওয়ার্ক সমস্যা দূর হয়ে গেলে বেশিরভাগ স্যামসাং ব্যবহারকারীই ফোরজি ব্যবহার করতে পারবেন।’

টেকনো মোবাইলের প্রধান নির্বাহী রেজওয়ানুল হক জানালেন, ‘মোবাইলপ্রেমীরা এরই মধ্যে খোঁজ করতে শুরু করেছে ফোরজির কী কী সেট বাজারে আছে। যাচাই-বাছাই চলছে এখন। বিক্রিও হচ্ছে মোটামুটি।’ মার্কেট এখনও পুরোপুরি রেডি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফোরজির নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়লে বিক্রিও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১০ হাজার ৯৯০ টাকার সেট ফোরজি সাপোর্টেড। বেশি দামের ফোনগুলোতে তো ফোরজি আছেই।’

শাওমি মোবাইলের প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন বলেন, ‘আমাদের সব স্মার্টফোনই ফোরজি সাপোর্টেড। শাওমির ১০ হাজার টাকা দামের ফোনগুলোতে ফোরজি দারুণ এক্সপেরিয়েন্স দেবে। ফলে আমাদের আলাদা করে কোনও প্রস্তুতি নিতে হয়নি।’ এরই মধ্যে ফোনের বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

ক্রেতারা দামি, কমদামি—সব ধরনের শাওমি স্মার্টফোন কিনছেন উল্লেখ করে দেওয়ান কানন বলেন, ‘ফোরজি ফোনের মূল কথাই হলো এক্সপেরিয়েন্স। শাওমিতে ব্যবহার করা হয় কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর। ফলে শাওমি ফোনে ফোরজি এক্সপেরিয়েন্স অবশ্যই ভালো হবে।’ তিনি বলেন, ‘ফোরজির কারণে দেশে এবার স্মার্টফোনের আমদানি বাড়বে।’

হুয়াইওয়ে ৯ হাজার ৯৯০ টাকায় ফোরজি সেট বিক্রি করছে। বিক্রি আগের তুলনায় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উই মোবাইল গ্রামীণফোনের সঙ্গে যৌথভাবে (কো-ব্র্যান্ডেড) ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা ফোরজি স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে। অন্যদিকে মাইক্রোম্যাক্স গ্রামীণফোনের সঙ্গেই যৌথভাবে ৭ হাজার ৫৯৯ টাকায় ফোরজি ফোন দিচ্ছে। বাংলালিংকও শিগগিরই সিম্ফনির সঙ্গে কো-ব্র্যান্ডেড স্মার্টফোন বাজারে ছাড়বে।

দেশীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনিও ফোরজি স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে। সিম্ফনির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি যে ক’ টি মডেলের (৮ হাজার ৩৪০ টাকা থেকে ১৯ হাজার টাকার মধ্যে) সেট বাজারে ছেড়েছে, এর সবই ফোরজি সাপোর্টেট স্মার্টফোন। ওয়ালটনও ফোরজি ফোন বাজারে ছেড়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশে আসা স্মার্টফোনগুলোর (২০১৭ সালের কোয়ার্টার-ফোর বা চতুর্থ প্রান্তিক) মধ্যে ১০ হাজার টাকার নিচের এবং ওপরের দামের মোবাইলের একটি পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। যেখান থেকে জানা গেছে দেশে কোন ব্র্যান্ডের কী অবস্থান। সেই পরিসংখ্যানে ১০ হাজার টাকার নিচের দামের ফোনগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিম্ফনি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে আইটেল ও হুয়াইওয়ে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্যামসাং ও ওয়ালটন মোবাইল।

অন্যদিকে ১০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শাওমি। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে অপো, হুয়াওয়ে ও নকিয়া মোবাইল।

Print