কলকাতায় ধর্মান্তকরণের খবরে বাধা, সাংবাদিকের মাথা ফাটাল হিন্দু সংহতির ‘গুন্ডারা’

February 14, 2018 at 8:28 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংহতির কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ উঠল। খোদ কলকাতার বুকে নিজেদের বার্ষিক সমাবেশের খবর কভার করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন সাংবাদিকরা।

ধর্মতলায় হিন্দু সংহতির সভায় একটি মুসলমান পরিবারকে পুষ্প স্তবক দিয়ে হিন্দু সমাজে ‘স্বাগত’ জানান সংগঠনের শীর্ষ নেতা তপন ঘোষ।

তিনি ঘোষণা করেন জনৈক হুসেন আলিকে সংগঠনের সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ‘‘ফুলের তোড়া দিয়ে বিশাল হিন্দু সমাজে বরণ করে নেবেন।’’

একই সঙ্গে পরিবারের শিশু-মহিলা—সহ ১৪ জন সদস্যকে হিন্দু সমাজে ‘ফিরিয়ে’ নেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির পতাকা তুলে দেওয়া হয়। জয়ধ্বনি ওঠে সমাবেশে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে থেকে। মঞ্চ থেকেও স্লোগান দেওয়া হয়, ‘‘ভারত মাতা কি জয়’’, ‘‘হর হর মহাদেব’’ ইত্যাদি।

মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করা হয়, এমন ধর্মান্তকরণের কাজ ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।
সভার শেষের দিকে যখন মঞ্চের নীচে সেই পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চান সাংবাদিকরা। জানতে চান তাঁদের পরিচয়, তখনই তাঁদের ঘিরে ধরে হিন্দু সংহতির কর্মীরা। কোনও ভাবেই সেই পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দিতে চাননি তাঁরা। সাংবাদিকদের বলা হয়, ‘কথা বলা বারণ।’

সাংবাদিকরা যখন হুসেন আলি ও তাঁর পরিবারের ‘ধর্মান্তকরণের’ কারণ জানার চেষ্টা করেন, তখনই তাঁদের উপর আক্রমণ চালান সংগঠনের কর্মীরা।

একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। অন্যান্যদের মারধর করা হয়। হুমকিও দেওয়া হয় সাংবাদিকদের।

সেই সময়ে মঞ্চে হিন্দু সংহতির নেতারা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা কেউই সাংবাদিকদের বাঁচাতে আসেননি। কেন ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দিতে চান না, তা নিয়েও কোনও কথা বলেননি নেতারা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যাদিকে বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। এবেলা

Print