গোলাপ, মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে পুলিশ! লজ্জায় লাল আসামি

February 14, 2018 at 8:24 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

হাতকড়ার বদলে হাতে গোলাপ, মিষ্টির প্যাকেট। রয়েছেন খোদ পুলিশ সুপারও। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র সকালে বাড়ির বাইরে ব্যান্ড পার্টির আওয়াজ শুনে দরজা খুলে রীতিমতো হতবাকই হয়ে গিয়েছিল রায়গঞ্জের দু’টি পরিবার।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারলেন, পুলিশের যাবতীয় আয়োজন তাঁদেরই জন্য। আসলে পুলিশ তাঁদের পরিবারেরই সদস্যদের খোঁজে এসেছে। কিন্তু একটু অন্যভাবে।

ভ্যালেনটাইনস ডে-তে গাঁধীগিরি করে যেন ‘মুন্নাভাই’-কেই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল উত্তর দিনাজপুরের জেলা পুলিশ।

এরই পালটা দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে গাঁধীগিরির পরিকল্পনা করে পুলিশ। সেই মতো এ দিন সকালে ফুল, মিষ্টি, টেডি নিয়ে দুই অভিযুক্তের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। সঙ্গে ছিল পুলিশ ব্যান্ডের সদস্যরা। রীতিমতো শোভাযাত্রা করে, বাড়ির সামনে গিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে অভিযুক্ত দু’জনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘উপহার’। সঙ্গে দু’জনের দীর্ঘায়ু কামনা করে চিঠিও দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। সব দেখেশুনে তখন প্রবল অস্বস্তিতে দুই অভিযুক্তের পরিবারই।

পুলিশের এই আচরণে এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেও ওই দুই যুবকের অশালীন মন্তব্যকেও তাঁরা অবশ্য সমর্থন করেননি।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি তুলকালাম হয় রায়গঞ্জ শহরে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরই মধ্যে শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা বুবুল চক্রবর্তী ও কসবা এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর রায় নিজেদের ফেসবুক পেজে ছাত্রমৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করে তাদের ‘জুতোপেটা করা’ এবং ‘লাথি মারা’ উচিত বলে কয়েকটি মন্তব্য করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসে।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ দিন বুবুল চক্রবর্তী এবং শঙ্কর রায়ের বাড়ি গিয়ে উপহার দিয়ে আসে পুলিশ। সঙ্গে ফেসবুকে তাঁদের পোস্ট করা মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রিন্ট করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। সেখানে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা পুলিশ বিভাগের মূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেওয়া হয় দুই অভিযুক্তকে। পুলিশের কোনও ব্যবহারে কখনও তাঁরা আঘাত পেয়ে থাকলে ক্ষমাও চেয়ে নেওয়া হয়েছে চিঠিতে। আচমকা পুলিশ বাড়ি বয়ে উপহার, ফুল নিয়ে আসায় কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় দু’টি পরিবারই। পরে অবশ্য উপহার গ্রহণ করে তারা।

উকিলপাড়ার বাসিন্দা বুবুল চক্রবর্তী বলেন, “সেদিনের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় খুব মর্মাহত হয়ে পড়েছিলাম। সেই কারণেই হয়তো ভুল কিছু মন্তব্য করে ফেলেছি। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। পুলিশের এই ধরনের আচরণ দেখে আমি সত্যিই অবাক।’’

কসবার বাসিন্দা শঙ্কর রায় বাড়িতে না থাকায় তাঁর বাবা পুলিশের এই উপহার গ্রহণ করেন। রঘুনাথ রায় জানিয়েছেন, “আমি নিজে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী। অশালীন ভাষায় পুলিশকে মন্তব্য করে আমার ছেলে ঠিক করেনি।’’

পুলিশ সুপার শ্যাম সিং জানিয়েছেন, “ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় আমরাও মর্মাহত। এই নিয়ে মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু ওই দুই যুবকের মন্তব্য দেখে মনে হয়েছে, তাঁরা পুরনো কোনও অভিজ্ঞতা থেকেই এই কাজ

করেছেন। পথ দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে সব কাজেই সাধারণ মানুষ আমাদের পরামর্শ দিতে পারেন। তা না করে তাঁরা অশালীন ভাষায় পুলিশকে আক্রমণ করেছেন। বিষয়টি তাঁদের বোঝানোর জন্যই এই কাজ করা হয়েছে।’’ এবেলা

Print