বেহাল অবস্থা গোদাগাড়ী হাসপাতালের, সূঁই-সুতোও কিনতে হয় রোগীদের

February 13, 2018 at 8:26 pm

আব্দুল বাতেন, গোদাগাড়ী:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র গোদাগাড়ী ৩১ শষ্যা বিশিষ্ঠ হসপাতালটি জরাজীর্ণ অবস্থা। চিকিৎসক , ঔষধ , সুঁই সুতা সংকট সহ নানান অবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি শুরু থেকেই চলে আছে অবহেলা ও অবস্থাপনায়। ফলে গোদাগাড়ী উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে একরকম বঞ্চিত হয়ে আসছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবে। কিন্তু কাগজ কলমে ৫ জন কর্মরত থাকলেও বেশীর ভাগ চিকিৎসকই ডেপুটেশনের অজুহাতে বাইরে থাকায় চিকিৎসা পায় না এলাকার লোকজন।

মেডিকেল অফিসার ৫ জন কর্মরত থাকলেও তারা কোয়াটারে না থেকে রাজশাহী শহর হতে এসে অফিস টাইম ডিউটি করে চলে যায়। আবার কেউ কেউ কাজের অজুহাত দেখিয়ে অফিস ফাঁকি দিয়ে রাজশাহী শহরে বসেই বেতন ভাতা তুলে খাচ্ছেন। যে ডাক্তারটি সব সময় প্রয়োজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সেই ডাক্তারের পদটিই ফাঁকা আছে হাসপাতালে ফলে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে ফিরতে হয় রোগীদের।

নিয়ম অনুযায়ী জরুরী বিভাগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডিউটি পালনের নিয়ম থাকলেও কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থেকে কমিউনিটি মেডিকেল চিকিৎসক, ফার্মাসিষ্ট দিয়ে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা চলে। আর কোন রোগী আসলে হাসপাতালে ঔষধ সরবরাহ না থাকার অজুহাতে কোন ধরনের ঔষধ সাপ্লাই রোগীদের প্রদান না করে বাইরে হতে কিনতে বাধ্য করায় রোগীদের। এমনকি সুঁই-সুতাও পর্যন্ত কিনতে হয় রোগীদের।

গোদাগাড়ী পৌরশহরের বাসিন্দা জেসমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ছেলের পা হাসুয়াতে কেটে গেলে দ্রুত চিকিৎসা পাবার জন্য এই হাসপাতালে আসি। এসে দেখি কোন চিকিৎসক নেই একজন ফার্মাসিষ্ট দিয়ে জরুরী বিভাগ চলছে। সেখানে চিকিৎসা শুরু হলে কাগলে সুঁই-সুতা নেই বলে সেটিও ফার্মেসী হতে কিনে আনতে বলে।

গোদাগাড়ী মেডিকেল মোড়ের বাসিন্দা মোঃ ইলিয়াস আলি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা খুব বাজে কোন চিকিৎসা পাওয়া যাই না বললে ভূল হবে না। এখানকার ডাক্তারেরা ভাল মত চিকিৎসা প্রদান করে না। ডাক্তারের বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার নামে আশে পাশের ক্লিনিকগুলোতে এসে চিকিৎসা নেওয়া ও টেস্ট করাতে বাধ্য করেন।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগটি চালু থাকলেও সেখানে কোন রোগী এসে চিকিৎসা পায় না। কোন রেগীর বাচ্চা হতে আসলে জটিল অবস্থা আছে বলে বাইরের ক্লিনিক গুলোতে যেতে বাধ্য করে। সেখানে তাদের কমিশন বাণিজ্য আছে বলে জানাযায়। হাসপাতালের সিনিয়র স্টার্ফ নার্স খাতিজা খাতুন দীর্ঘদিন এই হাসপাতালে কর্মরত আছে তার জ্বালাই অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন। সে কোন রোগীর সেবা না করে বাচ্চা স্বাভাবিক ভাবে হওয়ার মত হলেও রোগীর স্বাজনদের ভয় দেখিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেয়।

হাসাপাতলটির ডেন্টাল ইউনিট থাকলেও কোন সেবা পায় না স্থানীয়রা। এক্সে-রে ইসিজি প্যাথলোজির ইউনিট থাকলেও কোন সেবা পায় না লোকজন। সব কিছুই বাইরে হতে করতে হয়। সকল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন হতে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষেরও কোন নজর নেই। পরীক্ষা নীরিক্ষা একমাত্র ইউনিট প্যাথলোজি বিভাগটি কোন রকম চালু থাকলেও সেখানের টেকনোলজিষ্ট আকতারুন্নাহার বেলী আড়াই মাস হতে মাতৃত্বকালীয় ছুটিতে আছে বলে জানা যায়। ফলে কোন সেবা পাইনা রোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা থাকায় রোগীদের বেডের নিচে ময়লার স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, আমাদের এখানে ৫ জন সুইপার কথা থাকলেও মাত্র একজন আছে ফলে এই অসুবিধা পূর্ব হতেই চলে আসছে। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী খাবার সরবরাহ ঠিক মত পায় না রোগীরা। আর এ্যাম্বুলেন্সটি বিশ বছর আগের হওয়াই ঠিকমত চলে না এ্যাম্বুলেন্সটি খুব ঘন ঘনই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে।

তবে স্থানীয়দের দাবি গোদাগাড়ীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আগমন ঘটছে ১৪ ফেব্রুয়ারী তিনি গোদাগাড়ী বাসির চিকিৎসা সেবা বিবেচনা করে এসব সংকট আর অনিয়মের বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। আর গোদাগাড়ী তানোরের সংসদ সদস্য মন্ত্রীর নিকট জনগনের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরলে এলকার লোকজন সুখে থাকবে বলে মন্তব্য করেন।

সার্বিক বিষয়ে গোদাগাড়ী ৩১ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত মেডিকেল অফিসার গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদা খাতুন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, আমরা চিকিৎসক সংকটে ভূগছি । মাত্র চারজন ডাক্তার আছে আর একজন কিছু দিনের মধ্যেই চলে যাবে ফলে সমস্যা আরও প্রকট হবে। হাসপাতালে ঔষধ সরবরাহ ঠিকমত নেই আমাদের নিজস্ব কোন বরাদ্দ নেই সির্ভিল সার্জন অফিস হতে বরাদ্দকৃত ঔষধ দিয়ে কোনরকম চালানো হয়। সুঁই সুতোও কিনতে হয় রেগীদের এমন অভিযোগ আছে বললে তিনি জবাবে বলেন, আমাদের বরাদ্দ না থাকলে কিছুই করার নেই।
স/শ

Print