পুঠিয়ায় সরকারী গাছ কেটে সাবাড় খবর নেই কর্তৃপক্ষের

February 13, 2018 at 12:52 pm

মইদুল ইসলাম মধু, পুঠিয়া:
পুঠিয়ায় দেদাড়ছে সরকারী গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা অথচ দেখভাল তো দূরের কথা; কোন খবর নেই কর্তৃপক্ষের। খোদ গাছগুলো সরকারের কোন দপ্তর থেকে লাগানো হয়েছে বা কারা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে তারো কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রাস্তার পাশের অবহেলায় থাকা ছোট বড় গাছগুলো পর্যায়ক্রমে কেটে সাবার করে ফেলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর পূর্বে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পুঠিয়া-তাহেরপুর সড়কের গন্ডোগোহালী থেকে পশ্চিমে ফুলবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ৭-৮ প্রজাতির প্রায় ১৬ হাজারের অধিক চারা গাছ লাগানো হয়। গাছগুলো লাগানোর পর থেকেই অযতœ অবহেলায় বড় হতে থাকে। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় এবং দেখভাল না থাকায় পর্যায়ক্রমে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বছর পাঁচেক আগে খোদ বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিনা টেন্ডারে কিছু গাছ কেটে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আড়াই কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ১৬ হাজার গাছের পরিবর্তে বর্তমানে শতাধিক গাছও চোখে পড়েনি । যে গাছগুলো দাড়িয়ে আছে সেগুলোর ডালপালাও কেটে নেড়া করে দিয়েছে স্থানীয়রা। তুলে নিয়ে গেছে গাছের চামড়া পর্যন্ত। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে আনুমানিক ১৭ বছরে প্রায় ১৬ হাজারের অধিক গাছ চুরি হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, শিশা গাছ, অর্জুন গাছ, নিম গাছ, বাবলা গাছ, কড়ই গাছ, আকাশমনি গাছসহ প্রায় ৭-৮ প্রজাতির গাছ।

রাস্তার পাশের বাড়ির সাইদুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ১৭ বছর পূর্বে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তার দুই পার্শে প্রায় ১৬ হাজারের অধিক গাছ লাগিয়েছিলো সে সময় গাছগুলো পরিচর্যার জন্য একজন ব্যাক্তিকে নিয়োজিত করা হয়েছিলো। কিন্তু গাছগুলো যখন বড় হতে থাকে তারপর থেকে আর কাউকে কোন খবর নিতে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, প্রায় বছর পাঁচেক আগে সরকারী লোক পরিচয় দিয়ে ১’শ অধিক বড় বড় গাছে নাম্বার দিয়ে কেটে নিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধীক ব্যাক্তি বলেন, গাছগুলোর অভিভাবক না থাকায় পর্যায়ক্রমে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দিনে দুপুরে গাছের ডাল পালা ও গভীর রাতে ছোট ছোট ট্রাক ভিড়িয়ে গাছ কেটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেছে। আবার অনেকে গাছের ডাল কেটে নেড়া করে ডালপালা নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৬ হাজারের অধিক গাছের মধ্যে এখন হাতে গোনা কয়েকটি গাছ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এইতো কয়েকদিন আগেও পূর্ব ধনঞ্জয়পাড়া গ্রামের বাবু ও রবিউল নামের দু’জন ব্যাক্তি ৬ টি গাছের সমস্ত ডালপালা কেটে নিয়ে গেছে। গাছগুলোর ডালপালা যেভাবে কেটে নেড়া করা হয়েছে তাতে বেশিদিন আর গাছগুলো বাঁচার সম্ভাবনা নেই। গাছগুলো সরকারের কোন দপ্তর থেকে লাগানো এবং গাছগুলো দেখভালের দায়িত্বে কারা নিয়োজিত এব্যপারে খোঁজ নিয়ে কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

গাছগুলোর ব্যপারে জানতে পুঠিয়া বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গাছগুলো আমাদের নয় তবে গাছগুলো বন বিভাগের হতে পারে। নাম্বার দিয়ে গাছ কাটার ব্যাপারটিও তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা বন কর্মকর্তা ফরেস্টার শাকীক হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন, গাছগুলো আমাদের নয় আমাদের এই পাশে বনায়ন নেই ধোপাপাড়ার পর থেকে বনায়ন আছে। এব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো কোন দপ্তরের তা খুঁজে বের করে চুরি যাওয়া গাছগুলোর ব্যপারে এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

স/আ

Print