এবার সাকিবকে নিয়ে নাটক

February 12, 2018 at 11:23 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি মাঝে। তাতেই ওলটপালট অনেক কিছু। সাকিব আল হাসানের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা, না খেলার দোলাচল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমন্বয়হীনতার আরেক অস্বস্তিকর ছবি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারের পরপরই ঘোষণা করা হয় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ই-মেইল আসে পরশু দুপুর সোয়া ২টায়। সেখানে অধিনায়ক হিসেবে দিব্যি রয়েছে সাকিবের নাম। আঙুলের ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার জন্য তাহলে প্রস্তুত এই অলরাউন্ডার। অথচ কাল দুপুর সাড়ে এগারোটার দিকে সাকিবের নিজের মুখে ভিন্ন সুর, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কি না জানি না। তবে আমার বোধহয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার সম্ভাবনা নেই। ডাক্তার বলেছেন, কমপক্ষে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। পুনর্বাসনের পর শ্রীলঙ্কাতে আমাদের যে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে হবে, সেটাতে খেলতে পারব।’

প্রশ্ন হলো, সাকিব নিজেই যখন বলছেন আরো দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন, তাহলে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে তাঁকে রাখা হলো কেন?

জাতীয় দল গঠনের আগে বিসিবির মেডিক্যাল টিম থেকে ক্রিকেটারদের মেডিক্যাল রিপোর্ট চাওয়ার নিয়ম। বিশেষত ইনজুরিতে পড়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এর বিকল্প নেই। সাকিব ইনজুরিতে পড়েছেন ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে, গত মাসের ২৭ তারিখ। এর পর থেকে তিনি মাঠের বাইরে, মিস করেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টেস্ট। মেডিক্যাল রিপোর্ট ছাড়া তাঁকে জাতীয় দলে ফেরানোর কোনো যুক্তিই নেই। নির্বাচকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী, ‘নির্বাচকরা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সাকিবের কী অবস্থা? বলেছি, আমরা জানি না। কারণ যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তখন পর্যন্ত সাকিবের হাতের সেলাই পর্যন্ত খুলিনি। ১০টি সেলাই পড়েছে ওখানে। কী অবস্থা, তা না খোলার আগে বলা অসম্ভব।’ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কথা অবশ্য ভিন্ন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে, সেলাই কাটার পর সাকিবের সুস্থ হতে সাত দিনের মতো লাগবে। সে কারণেই ১৮ তারিখ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওকে খেলানোর ব্যাপারে আশাবাদী।’ আর প্রথম টি-টোয়েন্টি? ‘ওখানে যে সাকিব খেলতে পারবেন না, তা তো আমরা আগেই জানতাম’—প্রধান নির্বাচকের কথা। প্রথম ম্যাচ সাকিব খেলতে পারবে না জানলে কেন দুটি ম্যাচের স্কোয়াডেই রাখা হয়েছে তাঁকে?

বাংলাদেশের দল ঘোষণার পর পরশু খোলা হয়েছে সাকিবের হাতের সেলাই। কাল থেকে শুরু করেছেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। প্রথম দিন করেছেন হালকা ব্যায়াম, নিয়েছেন ফিজিওথেরাপি। এখনো বেশ ব্যথা অনুভব করছেন এই অলরাউন্ডার। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরো পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে বলে দেবাশীষের দাবি, ‘চিকিৎসা প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ওর আঙুল ডিসলোকেশন হয়ে গেছে। ১০টি সেলাই পড়েছে। নিশ্চিত হয়ে তাই বলা সম্ভব না, কখন পুরোপুরি ফিট হবে। ওর দিকে যদি ফিল্ডিংয়ের সময় ১০০ কিলোমিটার গতির বল আসে, তাহলে কী করবে? সাকিব কি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করবে, নাকি সরিয়ে নেবে? আমরা জানি না। কখন জানব? যখন ওর দিকে সে গতির বল ছুড়ে দিতে অনুশীলন করাতে পারব। কয়েক দিন পর সাকিবের অবস্থা স্পষ্ট হবে।’

সাকিবের অবস্থা জানিয়ে বিসিবির সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে ই-মেইল দিয়েছে মেডিক্যাল টিম। সেটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল, ‘ওনারা প্রতিদিন আমাদের আপডেট জানাবেন। দু-তিন দিনের মধ্যে বোঝা যাবে, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সাকিব খেলতে পারবে কি না।’ এই যখন অবস্থা, তখন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা কি একটু পরে করা যেত না? আসলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট তিন দিনে শেষ হওয়াতেই এই তড়িঘড়ি বলে মনে হলো মিনহাজুলের কথায়, ‘টেস্ট সিরিজ শেষ হয়ে গেছে; টি-টোয়েন্টির দল তো তাই দিতে হবে। এ কারণে সাকিবকে রেখে দল দিয়ে দিলাম। কাল (আজ) টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসব। যদি প্রথম টি-টোয়েন্টির জন্য তাঁরা সাকিবের বদলি হিসেবে কাউকে চায়, তাহলে অন্য একজনকে দলে ঢোকাব। নইলে ১৪ জনের স্কোয়াড নিয়েই প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলবে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের পরপরই বোঝা গিয়েছিল টেস্ট সিরিজে সাকিব খেলতে পারবেন না। কিন্তু ‘কৌশলগত’ কারণে তখনই তা নিশ্চিত করা হয়নি। একই ‘কৌশল’ টি-টোয়েন্টি সিরিজ ঘিরেও। যে কারণে এই অলরাউন্ডারের নাম থাকে স্কোয়াডে, পরে আবার মেনে নেওয়া হয় যে, প্রথম ম্যাচটি অন্তত তিনি খেলতে পারছেন না। আসলে দ্বিতীয় ম্যাচেও সাকিবের মাঠে নামার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন এসে যাচ্ছে আরেকটি, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক হবেন কে?

সহঅধিনায়ক হিসেবে তামিম ইকবালেরই টস করতে নামার কথা। কিন্তু উইকেট নিয়ে সমালোচনা করে টেস্ট-সহঅধিনায়কত্ব তো খুইয়েছেন কিছুদিন আগেই। এখন তাঁকে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক করার ব্যাপারেও ‘অ্যালার্জি’ রয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের। আরেকটি বিতর্কিত নাটকের পর্দা ওঠার উপলক্ষ তাই তৈরি হয়েই আছে! কালের কণ্ঠ

Print