রাণীনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ

February 9, 2018 at 4:23 pm

রাণীনগর প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে ইউনিয়ন পরিষদের সালিশে সাদা কাগজে উপস্থিতির নামে স্বাক্ষর নিয়ে পরে নিজেদের ইচ্ছে মতো তথ্য লিখে পিরপালের জমি জালিয়াতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ উপজেলার ৭ নম্বর একডালা ইউনিয়ন পরিষদের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান মো: রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে। কোন উপায় না পেয়ে ওই পিরপালের জমির জিম্মাদার উপজেলার টং গ্রামের মো: সাদেক আলী আকন্দের ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংবাদকর্মীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি স্বাক্ষর জালিয়াতির এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একডালা ইউনিয়নের টং গ্রামের মো: সাদেক আলী আকন্দের বাবা মৃত-মহরম আলী আকন্দ টং গ্রামের পিরপালের ১একর ৯২শতংশ জমির জিম্মাদার ছিলেন। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলে সাদেক আলী আকন্দ দীর্ঘদিন যাবৎ এই জমি গুলোর দেখভাল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে বিএনপি সমর্থিত একই গ্রামের রওশন আলী আকন্দের ছেলে মো: মতিউর রহমান আকন্দসহ গ্রামের আরো কয়েকজন বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তিরা ওই পীরপালের জমি জিম্মাদার সাদেক আলী আকন্দের কাছ থেকে মুক্ত করে নেওয়ার জন্য একডালা ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করার জন্য গত ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে বাদী-বিবাদী উপস্থিত হলে পরিষদের চেয়াম্যানের মো: রেজাউল ইসলাম ও সচিব মো: আব্দুল হাকিম সাদা কাগজে কৌশল করে উভয় পক্ষের উপস্থিতির স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু বিষয়টি সেই দিন সমাধান না হওয়ায় চেয়ারম্যান পরবর্তিতে বিষয়টি সমাধান করার জন্য পরবর্তি বৈঠকের সম্ভাব্য দিন-তারিখ জানানো হবে বলে উভয়পক্ষকে জানিয়ে দেন।

পরবর্তিতে আর কোন বৈঠক না করেই উপস্থিতির স্বাক্ষর নেওয়া সাদা কাগজের উপরে বিএনপি সমর্থিত মতিউর রহমান আকন্দের পক্ষে পিরপালের জমির একতরফা রায় প্রদান করেন চেয়ারম্যান। পীরপালের এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ জমির জিম্মাদার ও গ্রামের অপরপক্ষ বিএনপি সমর্থিত কতিপয় ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো।

এই দ্বন্দ্বের জের ধরে কিছুদিন পূর্বে ইউপি চেয়ারম্যানের মদদে কতিপয় ব্যক্তিরা পিরপালের জমিতে থাকা বাঁশ ও অন্যান্য গাছ ও পিরপালের পুকুর থেকে জোর করে মাছ তুলে বিক্রয় করে ভুড়িভোজের আয়োজন করে। এর কিছু দিন পর জমির বর্তমান জিম্মাদারের পরিবারকে এক ঘরে করে রাখা হয় চেয়ারম্যানের মদদে। ওই পরিবারকে এক ঘরে রাখার সংবাদটি জাতীয়সহ অন্যান্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রশাসন বিষয়টি সমাধান করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ও প্রশাসন বিষয়টি নিজে সমাধান করে বলেন পরবর্তীতে দুইপক্ষকে নিয়ে বসে পিরপালের জমি গুলোর সমস্যা সমাধান করা হবে। বিষয়টি প্রশাসন দুইপক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার আগেই ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিতির স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির এই অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। তাই বিষয়টির সঠিক সমাধানের জন্য বর্তমান পিরপালের জমির জিম্মাদার মো: সাদেক আলী আকন্দ ও তার ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে একডালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে ক্ষিপ্ত হয়ে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘আমার আইনে যা হওয়ার কথা তাই আমি করেছি। আপনার (সংবাদকর্মীকে) যা ইচ্ছে তাই আপনি লিখেন। এই বিষয়ে আর আমি আপনার সঙ্গে কোন কথা বলবো না বলে চেয়ারম্যান ফোনের লাইন কেটে দেন।’

এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যানের অবহেলার কারণে পিরপালের এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তাই আমি এই দ্বন্দ্ব সমাধান করার জন্য পিরপালের এই সম্পত্তিগুলো সরকারের নামে (খাস) করে দিবো।
স/শ

Print