বাঘায় আমের মৌসুমকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে বাগান পরিচর্যা

January 18, 2018 at 5:26 pm

আমানুল হক আমান:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আড়াই লক্ষ মানুষের মধ্যে মৌসুম ভিক্তিক ৬০ ভাগ মানুষ আমের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া ৭০ ভাগ মানুষ আমের সাথে সম্পৃক্ত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী মৌসুমে আমের উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমের মৌসুমকে সামনে রেখে বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা বাগানগুলোতে শুরু করেছেন পরিচর্যা। বেশী ফলন পেতে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ঔষধ স্প্রে করছেন আম বাগানগুলোতে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর আগামী মৌসুমকে ম্যাঙ্গো ইয়ার হিসেবে চিহিৃত করে গত বছরের চেয়ে এবার আমের দ্বিগুন ফলন আশা করছেন।

আড়ানীর স্থানীয় আম বাবসায়ী আবদুস সুবহান মিয়া জানান, আমার প্রায় কোটি টাকার আমের পাতা কিনেছি। গত বছরে আমের ফলন কম হয়েছিল। আমকে ঘিরে কেউ বিক্রি করেন টুকরী, সুতলী, পেপার, ঘড় ইত্যাদি। আম নিয়ে উপজেলার মানুষ প্রায় তিন মাস ব্যস্ত থাকেন। উপজেলায় বর্তমানে প্রধান আম অর্থকারী ফসল।

উপজেলার উল্লেখযোগ্য আমের মধ্যে ফজলী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, অর্মতভোগ, ত্রি-ফলা, বৌ-পটানী, ভাদুরী, ক্ষীরসাপাত, আশ্বিণা, জয়েন্তী, জয়না, গুটি, কিষানভোগ, হিমসাগর, মোহনভোগ, মিশরীভোগ, কুয়াপাহাড়ী, সূর্যপরী, ক্ষুদিক্ষীরসা, লতাবোম্বাই, আলমশাহী, কহিতুর, গোপালভোগ, আলফানসো, কালিভোগ, কালাপাহাড়, সাহাপসন্দ, মোহনপসন্দ, সিদুরী, চৌষা, কালুয়া, ধলুয়া, দারভাঙ্গা, লক্ষণভোগ, আশ্বিণা, রাজভোগ, বৃন্দাবনী, দুধিয়া, টিক্কা, তোতাপুরী, কাঁচামিঠা, হাজীপুরী, আম্রপালী, মম্লিকা, সূবর্ণরেখা, মিশ্রস্পেশাল, ইন্ডিয়া চোষা, হরদেমনী, সরিখাস, মেঘলালন্টন, বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি, ভাসতারা, সিন্ধু, চম্পা, সূবর্ণ, নীলউদ্দিন, রাংগোয়াই, অরুনা, আলীপুরী, বেনীসান, নীলাস্বরী, দরশী, কাজলা, মায়ানমার স্পেশাল, মিনথলিন ও থাই।

বাগান মালিক আবদুল হানিফ ও আম ব্যবসায়ী সিরাজুল জানান, এ অঞ্চলের শত শত মানুষ আম মৌসুমের উপার্জন দ্বারাই তাদের পরিবারের সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করেন। উপজেলার অর্থনীতিতে আমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, আগের তুলনায় সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আম বাগানে সেচ ও হরমোন স্প্রে, অপ্রোয়োজনীয় ডাল ছাঁটাসহ বিভিন্ন যত্ন নেয়ায় আমের ফলন আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে ঠিকমত বাগানগুলোর পরিচর্যা নিতে পারলে মোটা অংকের টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন না বাগান মালিকরা। উপজেলায় মৌসুম ভিক্তিক ৬০ ভাগ মানুষ আমের উপর নির্ভরশীল।

উপজেলায় আট হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। গত মৌসুমে হেক্টর প্রতি ১০ মে. টন আমের ফলন নির্ধারন করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
স/শ

Print