সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পবায় রাজনৈতিক দলসমূহের সংহতি প্রকাশ

January 14, 2018 at 7:01 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় একটি আচরণবিধিতে সই করেছেন রাজশাহীর পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ও ওর্য়াকাস পার্টির সভাপতিরা। রোববার পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর এসপিএল কর্মসূচী ও পিএফজি পবার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পেভ এ্যাম্বাসেডর নওহাটা পৌর মেয়র শেখ মো. মকবুল হোসেন এর সভাপতিত্বে ও পিএফজি কোঅর্ডিনেটর সাংবাদিক সোহেল মাহবুব এর সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, জাতীয় পার্টির পবা উপজেলা সভাপতি আব্দুল মালেক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম.আশরাফুল হক তোতা, পবা নওহাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার জেড মূল বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা সমাজের সহিংসতা ও উগ্রপন্থা প্রতিরোধ এবং মর্যাদা, নিরাপত্তা, বহুত্ববাদ ও শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে এই আচরণবিধিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে দেশের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা ও উগ্রপন্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘মর্যাদা, নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্য’কে মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী, বিএনপির পক্ষে নওহাটা পৌর বিএনপির সম্পাদক মামুন সরকার জেড, পবা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল মালেক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম.আশরাফুল হক তোতা এই আচরণবিধিতে সই করেন।

আচরণ বিধিতে সই শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ যথেষ্ট সহিংসতা সহ্য করেছে। একে আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না।’ আচরণবিধির প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখানোর কথা বলেন তিনি।

নওহাটা পৌর বিএনপির সম্পাদক বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বহুত্ববাদ ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের কে এগিয়ে যেতে হবে।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বলেন, ‘এই আচরণবিধির প্রতি সৎ থাকতে পারলে সারা দেশের সামনে আমরা একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব।’

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ইউএসআইড, ইউকেএইড সহযোগিতায় এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ‘এসপিএল’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্টও এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার রাজনৈতিক নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে ঘটনাটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা বলে উল্লেখ করেন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মকর্তা শশাঙ্ক বরণ রায় বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অংশগ্রহণে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহায়তায় আমরা সহিংসতামুক্ত পবা গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় পবা উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরসাথে ‘নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণ’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, পেভ এ্যাম্বাসেডর ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছা. নারিফা বেগম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাইদুর রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এস এম কামুরুজ্জামান, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমদ সফিউদ্দিন, চারঘাট পেভ এ্যাম্বাসেডর মো. সাইফুল ইসলাম বাদশা, পবা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক মো. মোতাহার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, পবা পৌর বিএনপির মো. সাইদুর রহমান, বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, পবা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক কাজী নাজুমল ইসলাম, পারিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সোহরাব হোসেন, নারীনেতৃ রহিমা বেগম প্রমূখ নেতৃবৃন্দ ।
স/শ

Print