কারও কামাই কুড়ি হাজার, কারও দুশো ! চটে লাল গঙ্গাসাগেরর নাগা সাধুরা

January 14, 2018 at 1:21 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সবাই নাগা সাধু। পুণ্যাস্নানের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তবৃন্দের দক্ষিণা থেকে মোটা উপার্জনও গঙ্গাসাগর মেলায় আসার অনত্যম উদ্দেশ্য। অথচ নাগা সাধুদের কেউ কেউ যখন গঙ্গাসাগরে এসে মোটা টাকা উপার্জন করছেন, তখনও কারও কারও উপার্জন সামান্য। আর এই কারণেই পুলিশ-প্রশাসনের উপরে প্রবল ক্ষুব্ধ গঙ্গাসাগরে আসা নাগা সাধুদের একাংশ।

গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির মন্দিরের সামনে প্রতিবছরই ভিড় জমান নাগা সাধুরা। তাঁদেরই একাংশ এবারের মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরক্ত। দুই নম্বর সেক্টরে থাকা নাগা সাধুদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে ভক্ত সমাগম হচ্ছে না। আর এর পিছনে দায়ী এই সেক্টরে থাকা পুলিশ কর্মীরা। কারণ এই নাগা সাধুদের কাছে ভক্তবৃন্দকে ঘেঁষতে দিচ্ছে না পুলিশ।

অথচ ঠিক উল্টোদিকে সেক্টর একের দিকে থাকা নাগা সাধুদের কাছে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। বারে বারে এ বিষয়ে প্রশাসনের কর্তাদের জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ নাগা সাধুদের।

কথায় বলে ‘কারও পৌষমাস তো কারও সর্বনাশ’। গঙ্গাসাগর তীর্থে আসা নাগা সাধুদের ক্ষেত্রে ও এবার এই কথা প্রযোজ্য হয়ে গেলো। মেলায় ভিড় সামলাতে পুলিশের তরফ থেকেই এটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ ভিড়টাকে একদিক দিয়ে না সরিয়ে দুই দিক থেকে সরালে সব নাগা সাধুরাই ভক্তদের আশীর্বাদ করার সুযোগ পেতেন বলে দাবি করছেন ভক্ত সমাগম থেকে বঞ্চিত সাধুরা।

অভিযোগ, কপিল মুনির মন্দির লাগোয়া এক নম্বর সেক্টরে থাকা নাগা সন্ন্যাসীরা যখন দিনে কুড়ি হাজার টাকার বেশি প্রণামি পাচ্ছেন, ঠিক তখন উল্টোদিকে থাকা নাগা সাধুরা দিনে দুশো টাকাও প্রণামি পাচ্ছেন না। আর এই নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে সন্ন্যাসী মহলে। এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শাসক ওয়াই রত্নাকর রাও বলেন, “আমাদের প্রথম দায়িত্ব, কর্তব্য গঙ্গাসাগর মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা। আর সেই নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যা মেটানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছি।’’

Print