শিবগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি জালিয়াতির অভিযোগ

January 13, 2018 at 6:52 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ শতক জমি জাল করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিরুদ্দিন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ১৭ শতক জমি জালিয়াতির অভিযোগ এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

তবে বিষয়টি ক্যামেরার সামনে স্বীকার না করলেও ফোনে তার বক্তব্য রেকর্ড করলে প্ররোক্ষভাবে তিনি তা স্বীকার করেন। এ প্রতিবেদকসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রাচীন একটি বিদ্যালয় বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের দুটি মার্কেটসহ ৬২ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। প্রাচীন এ বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ হতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাশে তিনটি করে সেকশনে ১৫০০ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে। ২৪ জন শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছে। প্রাচীন এ বিদ্যালয়টি গত বছরের ১০মে শিবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সলেমান আলী মোহরারের সম্পাদনে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১ একর জমির মধ্য থেকে বিনোদপুর মৌজার ২১৫৬ ও ২১৬৫ নং ২ টি দাগের ১৭ শতক জমি ৮নং বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকুলে হস্তান্তর করা হয়। যার নব সৃষ্ট দলির নম্বর ৭৪১২/২০১৭। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে ১৭ শতক জমি ইউনিয়ন পরিষদকে হস্তান্তরের জন্য গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২ দফা আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যুগ্ম সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত একটি আদেশের মাধ্যমে বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দান বা বিনিময় বা বিক্রয়েরর কোন বিধান নেই। এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালার উদৃতি দিয়ে জমি হস্তান্তরে নিষেধাক্কা জারি করা হয়। কিন্তু এ আদেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে গোপনে মে মাসে জমি হস্তান্তর দেখানো হয়।

হস্তারান্তিত জমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খারিজ করতে গেলে জমি দাতা ও বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানতে পেরে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে খারিজের বিরোধিতা করেন। এতে করে চলতি মাসে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবু সায়েম এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনে জমি উদ্ধারে আন্দোলনে যাবার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে জালকৃত জমির উপর বসবাসকারী দোকানদারগণও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। আর এর জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিরুদ্দিন নিজেকে নির্দোশ দাবি করে জানান, তার অগোচরে সম্পূণ বেআইনিভাবে তাকে না জানিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে তার বিদ্যালয়ের নামের ১৭ শতক জমি জাল করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিভিন্ন দফতরে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়াও প্রয়োজনে তিনি আদালতে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আর অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের গর্ভনিং বডির সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও মোবাইল ফোনে পরোক্ষভাবে এ জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন। সেই সাথে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এ প্রতিবেদকসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেন।

ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এ বিদ্যালয়ের নামে ১৭ শতক জমি উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর।

স/অ

Print