উন্নয়নের চিত্র ফুঠে উঠেনি গোদাগাড়ীর উন্নয়ন মেলায়

January 13, 2018 at 4:18 pm

আব্দুল বাতেন:

সরাদেশে একযোগে গত ১১ জানুয়ারী হতে ১৩ জানুয়ারী তিনদিন ব্যাপি  বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন মেলার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই অনুযায়ী গোদাগাড়ী উপজেলার প্রশাসনও উপজেলা ক্যাম্পাসে বেশ সাজসজ্জিত হয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অফিসের স্টল বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন মেলার আয়োজন করে। প্রথম দিন হতেই শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের সমাগম ছিলো প্রচুর।

সরকারের নির্দেশানা ছিলো আপন আপন মন্ত্রণালয়ের এলাকা ভিত্তিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরবে স্ব স্ব অফিস।  মেলার প্রথম ও শেষ দিন সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় গুটি কয়েজ অফিসের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন  বাকিরা কর্মচারী ও পিয়ন দিয়ে স্টলে বসিয়ে রেখেছে। আগত দর্শনার্থীরা মেলা স্টল ঘুরে গোদাগাড়ীর উন্নয়ন চিত্র দেখতে চাইলে দেখাতে পারে নি।

মেলা স্টল ঘুরে মনে হয়েছে একরমক দায়সারা কাজ।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের অভিযোগ ছিলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অনেক উন্নয়ন করেছে কিন্তু গোদাগাড়ীর কি উন্নয়ন হয়েছে, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের অর্থ ২০০৮ সালে আমাদের গোদাগাড়ীর কি উন্নয়ন হয়েছিলো আর বর্তমান সরকার ৯ বছর থাকা কালিন কি উন্নয়ন হয়েছে তার  উন্নয়ন পার্থক্য চিত্র দেখতে পেলাম না।

বেলা ১১ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে তার সত্যতাও পাওয়া যায়। ফলে বর্তমান সরকারের গোদাগাড়ীর কি উন্নয়ন হয়েছে তা ভাল ভাবে ফুটে উঠেনি। গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের স্টলে গিয়ে গোদাগাড়ীর বিদ্যুৎ খাতে কি উন্নয়ন হয়েছে তা দেখতে চাইলে তা উপস্থাপন করতে পারেনি গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহাকরি প্রকৌশলী রাশেদুল হক।

প্রশ্ন করা হয়েছিলো বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও আগের সরকারের উন্নয়ন কি ছিলো তা তুলনামূলক তথ্য দেন জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রজেক্টর খারাপ হয়ে গেছে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তা দেখাতে পারছি না। উন্নয়ন তথ্য লিফলেট আকারে প্রস্তুত করে জনগণকে প্রদান করলে সব বার্তা জনগণ জানতে পারবে সেটি করেন এমনটি বললে তিনি বলেন এসব আমাদের এখানে নেই লেজার খাতায় আছে অফিসে এসে দেখেন।

বর্তমান সরকার উন্নয়ন প্রচারের জন্য যখন এলাকাভিত্তিক মেলার আয়োজন করছে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষদের কাছে ঠিক এই সময়ে কর্মকর্তারা অফিসে আসতে বলছে তথ্য নিতে তাহলে কেমন করে উন্নয়নের কথা জানবে জনগণ তা এখন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।


মেলার স্টল গুলোতে জনসাধারণ গিয়ে উন্নয়ন সম্পর্কিত জানতে চাইলে জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়নের লিফলেট তুলে দিচ্ছেন সবার হাতে। ফলে এলকার উন্নয়ন তথ্য জানতে পারছে না কেউ।

এমনি ভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিস, এলজিইডি, যুব উন্নয়ন, মৎস্য, সমাজসেবা, ভূমি অফিস, কৃষি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আনসার ভিডিপি অফিস, পল্লিউন্নয়ন অফিষ, খাদ্য অধিদপ্তর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মহিলা বিষয়ক অফিস, সমবায় অফিস, গোদাগাড়ী পৌরসভা, কাকনহাট পৌরসভা, কৃষি অফিস, উপজেলা নির্বাচন অফিস,গোদাগাড়ী মডেল থানাসহ বেশ কিছু অফিস আগের সরকার ও বর্তমান সরকরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সাফল্য তুলনা মূলক চিত্র তুলে ধরতে পারে নি।

এসব অফিস প্রধানদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আমরা উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেছি উন্নয়ন মেলার মিটিং হবে তা জানতে পারার পর আমরা সময়ের অভাবে তা তুলে ধরতে পারিনি। তবে তারা অভিযোগও করেন আমাদের কে মিটিং এ এভাবে উন্নয়ন চিত্র প্রস্তুত করতে বলেনি। বললে অবশ্যই করতাম।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ নেওয়াজকে অবহিত করা হলে তিনি মেলার স্টল পরিদর্শন করে তার সত্যতা পান। তিনি কয়েকটি অফিসকে দ্রুত পার্থক্যগত উন্নয়ন চিত্র লিফলেট আকারে প্রস্তুত করে স্টল হতে জনগণের মাঝে  বিতরনের নির্দেশ প্রদান করেন।

উন্নয়ন মেলার মিটিংএ পার্থক্যগত চিত্র তুলে ধাররা নির্দেশ প্রদান করা হয়নি এমন দাবি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান গণের এ প্রশ্ন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজকে করা হলে তিনি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন মিটিং এ একাধিকবার বলা হয়েছে। এমনকি তাদের এমন পার্থক্যগত চিত্র আমাকে জমা দিয়েছেন এগুলো আমি এমপি স্যার ওমর ফারুক চৌধুরীর নিকট উপস্থাপন করেছি । তারা বললেই তো হবে না।

তবে কিছু কিছু স্টল উন্নয়ন চিত্র ভাল ভাবেই তুলে ধরেছেন এমনটাও দেখতে পাওয়া গেছে তার মধ্যে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস তাদের প্রদর্শনী স্টলটি ছিলো আর্কর্ষীণ ও উন্নয়ন চিত্র ছিলো দৃশ্যমান, উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস একটিবাড়ী একটি খামার প্রকল্পের স্টল ছিলো দেখার মতো। এছাড়াও গোদাগাড়ী স্কুল এ্যান্ড কলেজ ও গোদাগাড়ী কলেজ তাদের উন্নয়ন চিত্র প্রজেক্টর ও চিত্রে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছে।

স/শ

Print