রাজশাহীতে জমি ফিরে পাওয়া ও খবর প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

January 10, 2018 at 10:04 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদক ব্যবসায়ী ও জোরপূর্বক জমি দখলকারী বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানি। আজ বুধবার বিকেলে নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনে রাব্বানি নিজেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে রাব্বানি সংবাদিকদের জানায়, তিনি ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর কাপাসিয়া মৌজায় তিন কাঠা জমি কেনেন। যাহার দলিল নম্বর ৮৪৬৫/২০১৬। এবং আমার ক্রয়কৃত জমিতে গত এক বছর আগে তিন রুম বিশিষ্ট একটি টিনসেড বাড়ি নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেই বাড়িতে মানুষ ভাড়া আছে। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তিনি আরো বলেন, সেই জমি ১০ জন মালিকের। এর মধ্যে এক মালিক সংবাদিক সম্মেলন করে। এই জমি আমি (রাব্বানি) কিনেছি। তার দলিল রয়েছে। আমাকে জড়িয়ে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বলে আক্ষ্যায়িত করেছে। আমার বিরুদ্ধে থানায় কোন মাদকের বিষয়ে মামলাও নেই। তারা আমার বাড়ি নিয়ে বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে আসাদ কাউন্সিলর, কথিত স্থানীয় নেতা মাসুদ রানা ও আসাদ। তারা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে।


এসময় তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের সময় দুইটি পত্রিকার রির্পোটার ছাড়া কেউ তার মন্তব্য নেই নি। যে সকল সংবাদপত্র রাব্বানিকে মাদক ব্যবসায়ী বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

অন্যদিকে, একইস্থানে জমি বুঝিঁয়ে পাওয়ার দাবিতে নয় ওয়ারিসের পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জমির ওয়ারিস মৃত খেতু মন্ডলের ছেলে আবুল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীর কাঁটাখালি পৌরসভাধীন কাপাসিয়া পূর্ব পাড়ার ১০ শরিকের পৈত্রীক জমি। দাগ নম্বর ২৪৫৭ ও ২৪৫৮। জমির পরিমান ৬১ শতাংশ। আরএস খতিয়ান নম্বর ৬১১, জেএল নম্বর ১৯৪, মোট জমির পরিমান ৬১ শতাংশ। তারা অনুমানিক ৪০ বছর ধরে ১০ শরিকের মধ্যে এক শরিক হেলাল নিজেই জমি জবর দখল করার চেষ্টা করে আসছে।

এর আগে মাদক ব্যবসায়ী হেলাল (৬০), বেলাল (৫৮), ইউসুফ (৫৬), বিচ্ছাদ (৫৪), মাহাবুল (৩৫), সাদেক, সকলের পিতা মৃত হাছেন মন্ডলসহ একই এলাকার হেলালের ছেলে রাব্বানী। জমি দখরের চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া এলাকা, কাটাখালী পৌরসভা, মতিহার থানাসহ বিভিন্ন স্থানে সমাধানের জন্য বসা হয়। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানীর অফিস কাজলা এলাকাতেও বসা হয়। সেখানে সাদা কাগজে উপস্থিত স্বাক্ষীগনের উপস্থিতিতে ১৬ কাঠা ১ পোষা জমি আমাদের দেবে মর্মে লিখিত আপোষ মিমাংসা হয়। তারা প্রথমে সালিশ মানবো বলে পরে মানে না। শুধু তাই নয়, মতিহার থানায় একটি আভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির এসআই তাজউদ্দিনকে বিষয়টি নিয়ে বসার জন্য দায়িত্ব ভার দেন। বসে বিবাদীগণ থানায় সময় নিলেও দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পরেনি।

এছাড়া বাকি শরিকগণ নিজ নিজ অংশের ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর দুই লাখ টাকা কাঠা মূল্যে সাংবাদিক রাব্বানীর কাছে তিন কাটা জমি বিক্রি করা হয়। তার এক মাস পরে বিবাদীগণ আসাদ কাউন্সিলর, নেতা মাসুদ রানা ও কানা আসাদের অসৎ পরামর্শে বিবাদীগণ মিমাংসা বয়কট করে পুনরায় তারা কাটাখালি পৌরসভায় বিচার দেয়।

এর কিছু দিন পরে আমাদের দখলে থাকা জমি ২৪৫৭ ও ২৪৫৮ নম্বর দাগের ৬১ শতাংশ জায়গা দখলের চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের ৩ জনকে ধরে মতিহার থানায় নিয়ে আসে। দুই দিনের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করে দেবে মর্মে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

পরে দুই নেতা ও কাউন্সিল কাটাখালি পৌরসভায় প্যাডে একটি লিখিত মিমাংসার কপি আমাদের ধরিয়ে দেয়। যেখানে পরিস্কার লিখা আছে যে, যে অবস্থানে রয়েছে প্রত্যেই নিজ নিজ অবস্থান বজায় রেখে চলবে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে যে পক্ষো রায় পাবে সেই পক্ষ জমি ভোগ দখল কবিবে।

এরই মধ্যে বিবাদীগনের দেয়া ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা মামলার রায় প্রদান করেন আদালত। (গত ২৯ নভেম্বর) মামলাটি খারিজ করে দেন বিচারক। বিজ্ঞ আদালতের খারিজ কপিতে নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

এর পরে আমরা আমাদের আরএস রেকর্ড এর ২৪৫৭ এবং ২৪৫৮ নম্বর দাগের জমিতে সিমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করি। তারা সব জায়গায় জমির প্রমান দেখাতে ব্যর্থ হয়ে কাটাখালি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদ, কথিত নেতা মাসুদ রানা ও আসাদ, বিবাদী হেলাল তার ভাই মাহাবুল ও তার ভাতিজা রাব্বানী এসে আমাদের পূনরায় আপোষ মিমাংসার জন্য প্রস্তাব দেয়। সেখানেও তারা কাগজ দেখাতে পারেনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী হেলাল পক্ষে কাউন্সিলর আসদ বলেন, আমার বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে। তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
স/শ

Print