প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেও বিমান বাংলাদেশের রাজশাহীর যাত্রীরা ভােগান্তিতে

January 4, 2018 at 8:47 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেও বিমান বাংলাদেশ  এয়ারলাইন্সের রাজশাহীর যাত্রীরা উড্ডয়ন ও লাগেজ নিয়ে ভােগান্তিতে পড়েন। এনিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। তাদের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার আনু মোস্তফার ফেসবুকে প্রকাশকৃত ক্ষোভ করে সিল্কসিটি নিউজের পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিমান বা আমরা যাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলে চিনি তার ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বাষিকী ছিল। এরই মধ্যে গতকাল আবার বিমানমন্ত্রীর অদল বদলও হয়েছে। আজ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে রাজশাহী-ঢাকা রুটের যাত্রী হয়েছিলাম। সৌভাগ্যবশত: হোক বা দুভাগবশত: হোক- শাহমখদুম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে দেখলাম , বেবিচকের কয়েকজন কমী গোটা তিনেক বেলুন ফুলিয়ে চেক-ইন কাউণ্টারে ঝুলিয়ে দিয়ে মাঝে মাঝে ও-গুলোতে তা-দিচ্ছিলেন। আর যাত্রীরা ওদের দেখে মিটি মিটি হাসছিলেন।

বোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সব যাত্রী তাকিয়েছিলেন কখন বিমান নামবে। কিন্তু নামার আর কথা নেই। যাত্রীরা অস্থির হয়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন যুবক শ্রেণীর যাত্রী একটু হৈ-চৈ করছিলেন। শেষে বিমানের একজন সিকিউরিটি এসে জানালেন ১১টার আগে ঢাকা থেকে উড়তে পারবে না। সুতরাং রাজশাহী ছাড়তে পারে সাড়ে ১২টা নাগাদ।

এভাবে ১২টা ৪০, আবার একটা ১০, দেড়টা ইত্যাদি সময় বলে বলে অবশেষে পৌণে দুটায় বিমান বাহাদুর নাজিল হলেন। শেষে ২টা ১০ মিনিটে আমরা ঢাকার পথে উড়লাম। বিমান যথারীতি ৪০ মিনিটে শাহজালালে নেমে গেলো। যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে লাউঞ্জে লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করলেন। বলে রাখা ভালো আমাদের কিছুক্ষণ আগে সিলেট ও কক্সবাজার থেকে যারা এসেছেন তারাও লাগেজের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।

শেষে পা ফেলার জায়গা নেই। কে কোথায় দাঁড়াবে? এরই মধ্যে ইউএস বাংলা ও নভো এয়ারের যাত্রীরা এসে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়িয়ে দিল। ইউএস আর নভোর যাত্রীরা ১০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পেয়ে গেলেন। কিন্তু আমরা বিশেষ করে কক্সবাজার, সিলেট ও রাজশাহীর যাত্রীদের লাগেজের হদিশ নেই। কেউ কেউ উঁকি দিয়ে দেখছিলেন ঠ্যালাতে করে লাগেজ আসছে কিনা। না-দেড় ঘন্টা পার হয়ে গেলো।

শেষে ৪টার দিকে আমরা কয়েকজন লাগেজ কোথায় জানতে বের হলাম। সিকিউরিটি বললেন, ওদিকে তো যাওয়া যাবে না। আমরা বললাম , তো আমাদের লাগেজ কোথায় সেটা বলেন। তিনি উত্তর দিলেন লাগেজের খোঁজ দেওয়া আমার কাজ নয়। ওটা বিমানের লোকেরা করে। মহাবিপদ।

শেষে বিমানবন্দরের একজন ম্যাজিষ্ট্রেটকে ফোন দিলাম। তাকে সবকিছু জানালাম। উনি কি করলেন জানি না তবে মিনিট পনেরোর মধ্যেই তিনটি ফ্লাইটের লাগেজ একযোগে হাজির হলো। যে যেমনভাবে পারলো, নিজেরটা নিয়ে ছুট দিলো।

——–বাসায় আসার পথে খুব আপেক্ষ হচ্ছিল যে বিমান বাংলাদেশের জাতীয় এয়ারলাইন্স। আজ এর প্রতিষ্ঠা বাষিকীও। অন্তত প্রতিষ্ঠা বাষিকীর দিনে ওরা যাত্রীদের সুন্দর সেবাটা দিতে পারতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষপ্রান্তে জনপ্রিয় একটা নাটক দেখতাম আমরা- “ কোথাও কেউ নেই”।

এখন দেখি কারো কোনো লজ্জা শরমও নেই। বিমানের কোনো বাপ-মা আছে কিনা-সেটাও সন্দেহ হয়। আজ বিমানের প্রতিষ্ঠা বাষিকীর দিনে যে পরিষেবা আমরা পেলাম সেটার জন্য ওদের পাছায় কষে দু’খান লাথি হয়তো দিতে পারবো না, কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য করে থুথু ছিটিয়ে একটু সান্তনা খুঁজতে তো পারি। কেউ অপরাধ নেবেন না।

স/আর

Print